মাছ চাষীদের স্বনির্ভর করতে! মৎস্য দফতরের উদ্যোগে,আতমা প্রকল্পের অধীন মাছের চারাপোনা বিতরণ

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল, নারায়ণগড়: জেলা জুড়ে বেড়েই চলে মাছ চাষের ঝিলের সংখ্যা। আর এই ঝিলের মধ্য দিয়ে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করে মাছ চাষ করা হচ্ছে একাধিক এলাকায়। আর সেই মাছ কমদামে সহজেই বাজারজাত করা হচ্ছে।

যার ফলে দেশি মাগুর-সিঙ্গি-পাবদা সহ বেশকিছু প্রজাতির মাছ আজ বিলুপ্তির পথে। বাজারে প্রায় নেই বললেই চলে, যার ফলে বাজার গিয়েও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে দেশি মাছ প্রিয়সীদের। যদিও মিলছে তাও আবার আকাশ ছোঁয়া দাম। মাছ কিনতে হিমশিম খাচ্ছে ক্রেতারা। এই পরিস্থিতে দেশিয় মাছ চাষে, এলাকার চাষীদের স্বনির্ভর করার লক্ষ্য রাজ্য সরকারের মৎস্য দপ্তর প্রতিটি জেলায় জেলায় প্রদর্শনী ক্ষেত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সেইমত নারায়ণগড় ব্লক মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে, রাজ্য সরকারের আতমা প্রকল্পের অধীন সম্পূর্ন দেশীয় প্রযুক্তিতে অন্যান্য মাছের সঙ্গে পাবদা মাছ চাষের উৎসাহ বাড়ানোর লক্ষ্য,বুধবার এদিন পাবদা মাছ চাষের প্রদর্শনী ক্ষেত্র আয়োজন করা হয়। এই প্রদর্শনীতে নারায়ণগড় ব্লকের প্রায় ১৬ জন মৎস্য চাষীর হাতে ৬০০-পিস পাবদা মাছের চারাপোনা তুলে দেওয়া হয়।

এই ব্যাপারে ব্লক টেকনিক্যাল ম্যানেজার বকুল সাউ বলেন, গত বেশ কয়েকদিন ধরে আমরা রাজ্য সরকারের আতমা প্রকল্পের মধ্য দিয়ে,এলাকার মাছ চাষীদের বিলুপ্তপ্রায় মাছ চাষ করার জন্য উৎসাহিত করার চেষ্টা করছি। প্রতিটি এলাকায় মাছ চাষীদের পাবদা মাছ চাষ করার জন্য মাছের চারাপোনা দেওয়া হচ্ছে। তার সঙ্গে কিভাবে চাষ করা যাবে এই মাছ তারও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, এই মাছ সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে অন্যান্য মাছের সঙ্গে চাষ করা যেতে পারে।

আমরা আশাবাদী চাষিরা ভালোভাবেই এই মাছের চাষ করে আর্থিকভাবে সচ্ছল হবে। তার সঙ্গে দেশীয় প্রজাতির এই মাছ আগামীতে বাজারজাত করবে। এ ব্যাপারে মাছচাষিরা বলেন, সরকারি অনুদান ছাড়াও হাতে কলমে সহযোগিতা পাওয়া জরুরি। অনেকেই প্রশিক্ষণ নিতে পারেনি।

ফলে মাছের বা পুকুরে রোগ পোকার আক্রমণ চিহ্নিত করা এবং তার প্রতিকার করার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। মাছের খাবার নিয়েও পরামর্শ দরকার হয়। তবে সরকারি স্তরে সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়ায় আমাদের মতো অনেকেই দেশি মাছ চাষে উৎসাহী হবে।