মেদিনীপুরে কেন্দ্রীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি দল

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: বুধবার সন্ধ্যায় মেদিনীপুর সার্কিট হাউসে এলেন কেন্দ্রীয় মানবাধিকার কমিশনের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল। রাজুল দেশাই এর নেতৃত্ব তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলে রাজুল দেশাই ছাড়াও ছিলেন প্রিয়া ভরদ্বাজ এবং বরুন চাপড়া।

কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানোর জন্য বিকেল থেকেই মেদিনীপুর সার্কিট হাউসে ছিল প্রচুর মানুষের ভিড়। কেউ এসেছেন কেশপুর থেকে। কেউ মোহনপুর ব্লক তো কেউ সবং থেকে। অভিযোগ জানানোর জন্য এত মানুষের ভির ছিল যে সবাই তাঁদের সমস্যার কথা বলতেই সুযোগ পেলেন না কমিশনের সদস্যদের কাছে। কেউ সমস্যার কথা জানাতে না পেরে উষ্মা প্রকাশ করলেন, আবার কেউ বললেন অভিযোগ জানাতে পেরে খুশি।

জানা গিয়েছে, রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখছেন মানবাধিকার কমিশনের সদস্যরা। বুধবার পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে বাড়িছাড়া, অত্যাচারিত লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন, কমিশনের সদস্যরা। পুর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম থেকে সন্ধ্যে নাগাদ মেদিনীপুর সার্কিট হাউসে আসেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

উপস্থিত সকলের সঙ্গে কথা বলে কমিশনের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকা রাজুল দেশাই বলেন, ‘আজ আমরা নন্দীগ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর ঘুরে দেখলাম। আমাদের উদ্দেশ্য মানবাধিকার কমিশোনে যত অভিযোগ জমা পড়েছে, সেই সব অভিযোগকারীদের কাছ থেকে শুনলাম, কী কী ঘটনা ঘটছে বা ঘটেছে। গণতান্ত্রিক দেশে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার অধিকার মানুষের আছে।

এরাজ্যে ভোট পরবর্তী কোথায় কী ধরনের ঘটনা ঘটেছে তা অভিযোগকারীদের কাছ থেকে শুনলাম। এরপর আমরা কলকাতা হাইকোর্টে আমাদের রিপোর্ট জমা দেবো। রাজুল দেশাই বলেন, এখানকার পুলিশ সুপারের সঙ্গেও কথা হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে। আজ এঁদের বক্তব্য শুনলাম এর পর পরবর্তি পদক্ষেপ হবে।’

নারায়ণগড় থেকে অভিযোগ জানাতে আসা এক মহিলা বলেন, ‘ভোটের আগে থেকে আমাদের বাড়ির সামনে তৃণমূলের লোকজন এসে গালিগালাজ করছে, হুমকি দিয়েছে। বলছে মেয়েকে তুলে নেবে, যাবে না হয় আমাকে তুলে নিয়ে যাবে। পুলিশকে অভিযোগ জানানোর পরও নিরাপদে থাকতে পারছিনা। সেকথা কমিশনের সদস্যদের জানালাম।

কেশপুর বিধানসভার আনন্দপুর থানা এলাকা থেকে আসা এক মহিলা বলেন, ;আমার ছেলে বিজেপি করে বলে আমাদের মারধর, বাড়ি লুঠপাঠ করেছে। পুলিশকে জানালে তারা বলে, বিজেপি করলে তো হবেই। এসব কথায় জানালাম।’ সবংইয়ের খাওখান্ডা থেকে আসা বুল্টি মণ্ডল বলেন, আমার স্বামীকে সারে তিন বছর আগে আমার স্বামীকে খুন করেছে তৃণমূলের লোকজন।

ভোটের পর থেকে বাড়িতে এসে মারধর, হুমকি দিচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে কেস করেছি তারা এসে কেস তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। এখন আমরা বাড়ি ছাড়া। এই কথায় কমিশনের সদস্যদের জানালাম।’ এমন ভুরি ভুরি অভিযোগ জানালেন অত্যাচারিতরা। ভালো ভাবে সকলের কথা না শোনায় অভিযোগ জানিয়েও খুশি নয় অনেকে।