খড়গপুরে মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোন করে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করার কর্মসূচি কার্যত ব্যর্থ প্রথমদিন

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোন করে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করার কর্মসূচি কার্যত ব্যর্থ প্রথমদিন।  বৃহস্পতিবার থেকে এই মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোন করে কড়া বিধিনিষেধ চালু হয়েছে খড়গপুর পুরসভার পাঁচটি ওয়ার্ডে। তারমধ্যে ১৩ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে এইদিন সকাল থেকে এই কড়া বিধিনিষেধ কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।

বাঁশ ও শালকাঠ দিয়ে রাস্তা ঘিরে দেওয়া হলেও অনেকেই এই ঘেরাটোপ অমান্য করে দিব্যি যাতায়াত করেছেন। আবার অনেকে ঘেরাটোপ এড়িয়ে পাশের উন্মুক্ত রাস্তা দিয়ে পার হয়েছেন। এছাড়া এইদিন সকাল থেকেই ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিমপুরা বাজারে বহু দোকানপাট খোলা ছিল। শহরের বাইরের আনাজ বিক্রেতারা না আসলেও স্থানীয় সবজী বিক্রেতারা পসার নিয়ে বসেছিলেন।

মানুষজন বাজারে এসেছিলেন। খোলা ছিল দোকানপাট। তবে ওয়ার্ডে বিভিন্ন গলিতে কিছু ছোটখাটো দোকানপাট খোলা থাকলেও অধিকাংশ বন্ধ ছিল। পাশাপাশি এই দুটি ওয়ার্ডের দুই বিদায়ী কাউন্সিলর তথা কোঅর্ডিনেটর সহ প্রাক্তন পুরপ্রধান পর্যন্ত এই মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোন করার ঘোষণায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

তেরো নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর তথা কোঅর্ডিনেটর ভেঙ্কট রামনা রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন ” আমার মাথায় আসছে না কেন এই ওয়ার্ডকে বেছে নেওয়া হয়েছে মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোন হিসাবে। এখানে তো এখন করোনা সংক্রমণের কোনও ঘটনা নেই। এমনকি দ্বিতীয় তরঙ্গের সময়েও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা খুব বেশি ছিল না। মেরেকেটে শ খানেক হবে। আর মৃত্যুর সংখ্যা মাত্র তিন।

বরং সেই তুলনায় পাশে বারো নম্বর ওয়ার্ড সহ আরও কয়েকটি ওয়ার্ডে করোনা মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। সেই ওয়ার্ডগুলি কিভাবে বাদ হয়ে গেল বুঝতে পারছি না। এই ওয়ার্ডে মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোন করার কোনও অর্থ নেই।” বরং তিনি এইভাবে মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোন করায় ছোটোখাটো দোকানদারদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি একাংশ মানুষ এই কড়া বিধিনিষেধ মানছেন না বলে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন ” মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোন করে কড়া বিধিনিষেধ চালু করতে হলে পুলিশকে আরও তৎপর হতে হবে।” একইভাবে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর তথা কোঅর্ডিনেটর অঞ্জনা সাকরে। তিনি বলেন ” এখন এলাকায় একটাও করোনার কেস নেই। এমনকি দ্বিতীয় তরঙ্গের সময়েও খুব বেশি ছিল না। তারপরেও কেন এই ওয়ার্ডকে মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোন হিসাবে ঘোষণা করা হল বুঝতে পারছি না।” আর এতটা খুল্লাম খুল্লাভাবে না বললেও তাঁর ওয়ার্ডে এখন কোনও করোনা আক্রান্ত নেই বলে জানালেন প্রাক্তন পুরপ্রধান তথা ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর তথা কোঅর্ডিনেটর জহরলাল পাল।

তিনি বলেন “প্রশাসন যা ভালো বুঝেছে করেছে। তবে আমার ওয়ার্ডে এখন কোনও করোনা আক্রান্ত নেই।” এই ওয়ার্ডটিও মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোনের আওতায় এসেছে। আর বাকি দুটি ওয়ার্ড ৩১ ও ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোন হিসাবে ঘোষণা করার পর থেকে মানুষজন সতর্ক হয়ে গিয়েছেন। এইদিন এই দুটি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোয়নি।

তবে এইদিন সকাল থেকে ১৩,১৫,৩১ ও ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর তথা কোঅর্ডিনেটরদের প্রচন্ড ব্যস্ত থাকতে হয়েছে খড়গপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপের কর্মীদের রেসিডেনসিয়াল দেওয়ার কাজে। কারন খড়গপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপ কর্তৃপক্ষ মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোনের আওতায় থাকা এই পাঁচটি ওয়ার্ডের বাসিন্দা কর্মীদের কর্মস্থলে প্রবেশের ব্যাপারে অনুমতি দিচ্ছে না।

তাঁদের বলা হয়েছে স্থানীয় কাউন্সিলরদের কাছ থেকে একটি করে রেসিডেনসিয়াল জমা দিয়ে সাতদিন বাড়িতে থাকতে। কর্মস্থলে না যেতে। আর এই রেসিডেনসিয়াল নেওয়ার জন্য এইদিন সকাল থেকে রেলকর্মীরা ওয়ার্ড কার্যালয়গুলিতে ভিড় জমিয়েছেন। এরকমই একজন ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিউ সেটেলমেন্ট এলাকার বাসিন্দা রেলকর্মী জি সানারি আচারি জানিয়েছেন এই রেসিডেনসিয়াল জমা দিলে সাতদিন ছুটি দেবে ওয়ার্কশপ কর্তৃপক্ষ। তাই রেসিডেনসিয়াল নিতে এসেছেন।

এদিকে এইদিন সকালে ও দুপুরে প্রশাসনের একটি দল মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোনের আওতায় আসা পাঁচটি ওয়ার্ড পরিদর্শন করেছেন। এই ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খড়গপুর) রানা মুখোপাধ্যায় বলেছেন প্রথমদিনের ঢিলাঢালা ভাব শুক্রবার থেকে থাকবে না। নজরদারি ও পুলিশের টহলদারি আরও বাড়ানো হবে। এমনকি আরও বেশ কয়েকটি রাস্তা ঘিরে দেওয়া হবে। পাশাপাশি পুরসভার আরও দুটি ওয়ার্ডকে মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোনের আওতায় আনার প্রস্তাব স্বাস্থ্য দফতরকে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানালেন।