তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে উত্তপ্ত কেশিয়াড়ি, গ্রাম পঞ্চায়েতের মহিলা প্রধানকে মারধরের অভিযোগ দলীয় সদস্যদের বিরুদ্ধে

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল:  শাসকদলের একাংশ পঞ্চায়েত সদস্যদের হাতে নিগৃহীত হলেন গ্ৰাম পঞ্চায়েতের মহিলা প্রধান। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দুপুরে কেশিয়াড়ি থানার বাঘাস্তি গ্ৰাম পঞ্চায়েতে। এই গ্ৰাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ের ভেতরে পুলিশের উপস্থিতিতে মহিলা প্রধান রুমি বেরা গিরিকে নিগ্ৰহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

আর পুলিশের উপস্থিতিতে এইভাবে মহিলা প্রধানকে নিগ্ৰহ করা দুর্ভাগ্যজনক বলে জানিয়েছেন কেশিয়াড়ির বিধায়ক পরেশ মুর্মূ। তবে এই মহিলা প্রধান দলের কেউ নয় বিজেপির বলে দাবি করেছেন তৃণমূলের কেশিয়াড়ি ব্লক সভাপতি অশোক রাউত। গোটা ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এসেছে। জানা গিয়েছে এইদিন বাঘাস্তি গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধান রুমি বেরা গিরি একটি সাধারন সভা ডাকেন।

সেখানে একজন বাদে বাকি বারোজন পঞ্চায়েত সদস্য উপস্থিত ছিলেন। আর ছিলেন কেশিয়াড়ি ব্লকের যুগ্ম বিডিও। এই ব্যাপারে প্রধান রুমি বেরা গিরি জানিয়েছেন সভায় রেগা প্রকল্প সহ আরও কিছু উন্নয়নের কাজ নিয়ে আলোচনা চলছিল। তারইমধ্যে কয়েকজন সদস্য তাঁকে গালাগালি করেন বলে তাঁর অভিযোগ। তারপর সভা শেষ হয়ে যাওয়ার পর যুগ্ম বিডিও ফিরে যান।

আর তিনি নিজের চেম্বারে বসে কিছু কাজ করছিলেন। তখন পাঁচজন গ্ৰাম পঞ্চায়েত সদস্য সহ দুই বহিরাগত তাঁর চেম্বারের ভেতরে প্রবেশ করেন। তারপর দরজা বন্ধ করে দিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। এমনটাই অভিযোগ মহিলা প্রধানের। তারপর খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। ঘটনার পর তাঁকে কেশিয়াড়ি গ্ৰামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে ঘটনার পর ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তৃণমূলের একাংশের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়।

এই ব্যাপারে কেশিয়াড়ির বিধায়ক পরেশ মুর্মূ রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন ” পুলিশের উপস্থিতিতে এইভাবে একজন মহিলা প্রধানকে মারধর করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা।” আর গোটা ঘটনার জন্য তিনি দলের ও পুলিশের একাংশের মদতের অভিযোগ করেছেন। যদিও এই মহিলা প্রধান দলের কেউ নয়। বিজেপির প্রধান বলে উল্লেখ করেছেন তৃণমূলের কেশিয়াড়ি ব্লক সভাপতি অশোক রাউত। পাশাপাশি তিনি বলেছেন ” প্রধানকে মারধর করা হয় নি।

পুরোটাই ওনার নাটক।” অপরদিকে জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ মামনি মান্ডি জানিয়েছেন এই মহিলা প্রধান তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। আর এটি দলের জেলা সভাপতি জানেন। আর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খড়গপুর) বলেছেন বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখবেন। তবে কোনও অভিযোগ দায়ের হলে খতিয়ে দেখা হবে। তবে কেশিয়াড়ি থানা সূত্রে জানা গিয়েছে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। প্রসঙ্গত বাঘাস্তি গ্ৰাম পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে ছিল।

মোট ১৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছিল নয়টি। আর তৃণমূল চারটি পেয়েছিল। কিন্তু প্রধান রুমি বেরা গিরিকে নিয়ে বিজেপির মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। একাংশ পঞ্চায়েত সদস্য তাঁকে সরাতে উদ্যোগী হয়। তারজন্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে চারজন তৃণমূলে যোগ দেন। পরবর্তীকালে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর প্রধান সহ বাকি পাঁচজন তৃণমূলের অপর গোষ্ঠীর হাত ধরে দলে যোগ দেন।

যদিও প্রধানকে দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রবল বিরোধিতা করে চলেছেন কেশিয়াড়ি ব্লক সভাপতি অশোক রাউত ও তাঁর গোষ্ঠীর নেতারা। প্রধান রুমি বেরা গিরি জানিয়েছেন তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। আর তৃণমূলের প্রধান হিসাবে কাজ করছেন।