খড়গপুর শহরের উন্নয়ন করতে নতুন রেলমন্ত্রীর দ্বারস্থ হচ্ছেন বিধায়ক হিরণ চ্যাটার্জী

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: নতুন রেলমন্ত্রীর সাথে দেখা করার জন্য আগামী সপ্তাহে দিল্লী যাচ্ছেন খড়গপুর শহরের তারকা বিধায়ক হিরণ। তারজন্য রীতিমতো হোমওয়ার্ক শুরু করেছেন এই তারকা বিধায়ক।

তিনি দিল্লী গিয়ে নতুন রেলমন্ত্রীর কাছে রেলের আওতায় থাকা খড়গপুর শহরের বিভিন্ন উন্নয়নের জন্য একটি তালিকা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও ইতিমধ্যে এই তারকা বিধায়ক রেলের খড়গপুর ডিভিশনের ডিআরএম মনোরঞ্জন প্রধানের সঙ্গে একাধিকবার দেখা করেছেন।

তাঁর কাছে শহরের রেলের আওতায় থাকা এলাকায় বিভিন্ন ধরনের কাজের জন্য কুড়ি দফা দাবি জানিয়েছেন। তারমধ্যে নিমপুরা এলাকায় জলের সমস্যা সমাধানের জন্য একটি নতুন জলাধার তৈরি থেকে শুরু করে বেশ কয়েকটি রাস্তা সংস্কার সহ কুড়ি নম্বর ওয়ার্ডে বেহাল রেল কোয়ার্টারগুলি মেরামতের দাবি রয়েছে।

বিধায়কের এই দাবি পূরণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে রেল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে বিধায়ককে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। এই ব্যাপারে বিধায়ক হিরণ জানিয়েছেন তিনি আগামী সপ্তাহে দিল্লী যাচ্ছেন নতুন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণোর সাথে দেখা করতে। তাঁর কাছে রেলের আওতায় থাকা খড়গপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নের জন্য একগুচ্ছ দাবি জানাবেন।

এছাড়া পরিকল্পনা রয়েছে রেল বোর্ডের চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করার। তিনি বলেন খড়গপুর শহরের বিরাট একটি এলাকা রেলের আওতায় রয়েছে। এই এলাকার উন্নয়ন করতে হলে রেল কর্তৃপক্ষের সাহায্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন। সেই কারনে দিল্লীতে রেলমন্ত্রীর সাথে দেখা করে আলোচনা করতে যাচ্ছেন বলে তিনি জানালেন। বিশেষ করে রেলের পড়ে থাকা ফাঁকা জমিগুলি ক্রমশই বেআইনিভাবে দখল হয়ে যাচ্ছে।

এই বেআইনি দখল সরিয়ে ফাঁকা জমিগুলি যাতে শহরের মানুষের স্বার্থে সার্বিকভাবে ব্যবহার করা যায় তার অনুরোধ করবেন বলে জানালেন। প্রসঙ্গত সদ্য শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে খড়গপুর শহরে নির্বাচনী প্রচারে এসে তৎকালীন রেলমন্ত্রী পিযূষ গোয়েল নানারকম প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছিলেন। অনেক স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন।

বিশেষ করে খড়গপুর শহরে রেল এলাকায় বস্তিগুলির উন্নয়নের জন্য একগুচ্ছ প্রকল্পের কথা শুনিয়েছিলেন। তারমধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলো খড়গপুর শহরে রেলের ফাঁকা ও বিস্তীর্ণ জমিতে বহুতল আবাসন তৈরি করে বস্তিবাসীদের সেখানে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন। তারসাথে রেলের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নতি সহ রেলর্মীদের বসবাসের জন্য আরও কোয়ার্টার তৈরির কথা বলেছিলেন।

তারসাথে রেল এলাকায় পানীয় জলের ভাল ব্যবস্থা সহ নিকাশি ব্যবস্থা উন্নত করার কথাও বলা হয়েছিল। জানা গিয়েছে নতুন রেলমন্ত্রীর কাছে সময় ও সুযোগ পেলে বিধায়ক এইসব বিষয় উল্লেখ করবেন। খড়গপুর শহরে রেলের আওতায় থাকা এলাকায় কমপক্ষে কুড়িটি ছোটো ও বড়ো বস্তি রয়েছে।

আর এই বস্তিগুলি স্বাধীনতার আগে থেকে রয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত এই বস্তিগুলোতে নূন্যতম উন্নয়ন হয় নি। পানীয় জলের কোনও ব্যবস্থা নেই। বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। শৌচাগার নেই। বসবাস যোগ্য বাড়িঘর নেই। রাস্তা বলে কিছু নেই। নিকাশি ব্যাবস্থা অত্যন্ত খারাপ। সামান্য বৃষ্টিতে বস্তি এলাকাগুলিতে কাঁচা নালির জল রাস্তা ও বাড়িতে উঠে আসে।

এককথায় নরকের যন্ত্রণা নিয়ে বস্তি এলাকাগুলিতে বাসিন্দাদের জীবন যাপন করতে হয়। এবার বস্তি এলাকাগুলির এই নরক যন্ত্রণা ঘোচানোর শপথ নিয়ে উদ্যোগী হয়েছেন বিধায়ক হিরণ।