সবংয়ে পৃথক ঘটনায় দুটি অস্বাভাবিক মৃত্যু,এলাকায় শোকের ছায়া

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হল ক্লাস ইলেভেনের এক ছাত্রী। নাম মমতা মালাকার(১৭)। মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং ব্লকের বলপাই অঞ্চলে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বলপাই গ্রামের বাসিন্দা চন্দন মালাকার তিনি পেশায় ব্যাংকের কর্মী ছিলেন। দুই মেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে সংসার। বড় মেয়েকে বিয়েও দিয়েছেন। এক বছর আগে শারীরিক অসুস্থতার কারণে মৃত্যু হয় চন্দন বাবুর।

বাবার মৃত্যুর এক বছরের মধ্যেই প্রাণ গেল ছোট মেয়ের। গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হল ছোট মেয়ে। চন্দন মালাকারের স্ত্রী বলেন, স্বামী দেনা গ্রস্ত ছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে মারা যাওয়ার পর। আর্থিক অনটনের মধ্য দিয়ে সংসার চলছিল। তিনি এলাকায় লোকজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে ছিলেন। সেই টাকা এখনো পর্যন্ত শোধ করা যায়নি।

টাকা নিয়ে গতকাল শ্বশুরমশাইয়ের সঙ্গে পারিবারিক সমস্যা হয়। তারপরই আজ দুপুরে ছোট মেয়ে হঠাৎ বাড়িতে নেই। ঘটনায় খোঁজখবর শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরে দুপুর নাগাদ বাড়ির ছাদের উপর গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ওই ছাত্রীকে ঝুলতে দেখে পরিবারের সদস্যরা।
ঘটনার খবর পেয়ে, ছুটে আসে স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর দেওয়া হয় সবং থানায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সবং থানার পুলিশ আধিকারিকরা এসে।

ওই স্কুলছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করে সবং গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। ইতিমধ্যেই মৃতদেহটিকে ময়নাতদন্তের জন্য খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। শুধুই কি পারিবারিক বিবাদের জেরে আত্মঘাতী হলো ওই স্কুলছাত্রী? নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনো কারণ? ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সবং থানার পুলিশ।

ঘটনাস্থলে পুলিশ আধিকারিকরা গিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করছেন।

অন্যদিকে পথ দুর্ঘটনায় এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে আজ দুপুরে সবং থানার বিষ্ণুপুর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের নাঙ্গলকাটা শিবালয় মন্দিরের সামনে। পুলিশ জানিয়েছে মৃতের নাম তপতী বর্মন (৫৪)। বাড়ি বিষ্ণুপুর পূর্ব বাঁধ এলাকায়। জানা গিয়েছে একটি বাইকে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন ওই মহিলা। সেইসময় একটি ইঞ্জিন ট্রলির সাথে সংঘর্ষ হয়। ঘটনায় বাইক থেকে ছিটকে পড়ে যায় এই মহিলা। তড়িঘড়ি স্থানীয়রা গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে সবং গ্ৰামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। একদিনে পরপর দুটি পৃথক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।