সামাজিক বয়কটের অভিযোগ,কেশিয়াড়িতে আত্মহত্যার চেষ্টা বিজেপি কর্মীর

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: বিজেপি করার জন্য সামাজিক বয়কটের ফতোয়া। তারসাথে নিজের জমিতে চাষ করতে দেওয়া হচ্ছিল না। বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছিল।

সেই ক্ষোভে ও অপমানে বাড়িতে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন বিজেপির এক সক্রিয় কর্মী। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সকালে কেশিয়াড়ি থানার গগনেশ্বর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের করাট এলাকায়। অভিযোগের তির তৃণমূলের বিরুদ্ধে। যদিও তৃণমূলের নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

শুধু তাই নয় বিজেপির কর্মী আদৌ বিষ পান করে নি বলে দাবি করা হয়েছে তৃণমূলের পক্ষ থেকে। বরং পুরোটাই নাটক হচ্ছে বলে তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ। তবে বুধবার এই বিজেপি কর্মীর বৃদ্ধা মা কাননবালা দত্ত কেশিয়াড়ি থানা ও বিডিওর কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি ছেলের আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার জন্য এলাকার বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মীর নাম উল্লেখ করে শাস্তি দাবি করেছেন।

এদিকে অমরেশ দত্ত নামে এই বিজেপি কর্মী বর্তমানে বেলদা গ্ৰামীণ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। জানা গিয়েছে তিনি কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠেছেন। জানা গিয়েছে বিজেপি করার অপরাধে কেশিয়াড়ি থানার গগনেশ্বর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের করাট এলাকায় একটি পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক বয়কট করে রাখা হয়েছে। এমনকি জমিতে চাষ করতেও দেওয়া হচ্ছিল না।

শুধু তাই নয় অভিযোগ এক মাস আগে এই পরিবার একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় সালিশী সভা ডেকে আট লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। বয়কটের ফতোয়া জারি করা হয়। অভিযোগ পুরো ঘটনায় তৃণমূলের স্থানীয় কর্মীরা জড়িত রয়েছেন। পাশাপাশি তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য। কিন্তু তৃণমূলের এই চাপের কাছে তিনি নতি স্বীকার না করে বিজেপির সাথে থাকবেন বলে সাফ জানিয়ে দেন।

ফলে এই পরিবারকে কার্যত একঘরে করে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিকে মঙ্গলবার সকালে নিজের জমিতে চাষ করতে গেলে বাধা দেওয়া হয়। তখনই অমরেশবাবু ক্ষোভে ও অপমানে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে বেলদা গ্ৰামীণ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানে তিনি ভর্তি রয়েছেন। এরপরে বুধবার এই বিজেপি কর্মীর বৃদ্ধা মা থানায় ও বিডিওর কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

এই ব্যাপারে পুলিশ জানিয়েছে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। আর বারবার ফোন করা হলেও ফোন ধরেন নি বিডিও সৌগত রায়। তবে তৃণমূলের কেশিয়াড়ি ব্লক সভাপতি অশোক রাউত বলেছেন এই ব্যাক্তি ভারতের এমন কোনও রাজনৈতিক দল নেই যেটা করেন নি। এই ব্যাক্তির উপর কোনো জরিমানা ও চাপ সৃষ্টি করা হয় নি। এমনকি চাষের কাজেও কেউ বাধা দেয় নি। পুরোটাই ওনার নাটক।

পাশাপাশি এই ব্যাক্তি আদৌ কীটনাশক পান করেছেন কিনা সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি। যদিও বেলদা গ্ৰামীণ হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে অমরেশ দত্ত নামে কেশিয়াড়ি থানার গগনেশ্বর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের করাট এলাকার একজন কীটনাশক পান করেছেন বলে নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই ব্যাপারে নারায়ণগড় ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক আশীস মন্ডল জানিয়েছেন হাসপাতালে এই ব্যাক্তিকে ভর্তি করা হয়েছে কীটনাশক পান করেছেন বলে।

তবে তিনি এখন সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে তিনি জানালেন। অপরদিকে বিজেপির কেশিয়াড়ি দক্ষিণ মন্ডলের সভাপতি সনাতন দলুই বলেছেন তৃণমূল গোটা কেশিয়াড়ি ব্লক জুড়ে বিজেপির নেতা ও কর্মীদের উপর নানাভাবে সন্ত্রাস শুরু করেছে। গগনেশ্বর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের করাট এলাকার ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। তৃণমূলের অত্যাচারে অতীষ্ট হয়ে অমরেশ দত্ত কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।