তিনদিনের ব্যবধানে খড়গপুরে ফের তারকা বিধায়ক হিরণকে ব্যঙ্গ করে পড়লো পোস্টার

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: তিনদিনের ব্যবধানে ফের খড়গপুর শহরের বিজেপির তারকা বিধায়ক হিরণকে ব্যঙ্গ করা হল। শুক্রবার শহরের তালবাগিচা এলাকায় পোস্টার লাগানো হয়েছিল গুটিকয়েক।

কিন্তু এবারে গোটা খড়গপুর শহর জুড়ে ফ্লেক্সে ছয়লাপ করে দেওয়া হয়েছে। ফ্লেক্সে তারকা বিধায়ক হিরণের ছবি দিয়ে লেখা হয়েছে ” সন্ধান চাই। নিখোঁজ তারকা বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়।” সৌজন্যে খড়গপুর শহরের সাধারন মানুষ। যদিও এই ফ্লেক্স লাগানোর পেছনে তৃণমূলকে বিঁধতে ছাড়েনি গেরুয়া শিবির।

পাশাপাশি কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি গেরুয়া শিবিরের নেতারা। বিশেষ করে ফ্লেক্স লাগানোর দায় তৃণমূলের এড়িয়ে যাওয়াকে গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে কটাক্ষ ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এই ফ্লেক্স যখন গোটা খড়গপুর শহর জুড়ে ছয়লাপ করে দেওয়া হয়েছে তার আগে শুক্রবার থেকেই তারকা বিধায়ক হিরণ শহরে রয়েছেন।

সোমবার সকাল থেকে খড়গপুর শহরের সমস্ত জনবহুল এলাকায় এই ফ্লেক্স নজরে পড়ে সাধারন মানুষের। সাতসকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এইধরনের ফ্লেক্স দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন। এই ব্যাপারে তারকা বিধায়ক হিরণ সোমবার খড়গপুরে বসে সাফ বলেছেন ” আমি তো শুক্রবার থেকে শহরে রয়েছি।

সাধারন মানুষ থেকে দলীয় কর্মী সকলের সাথে দেখা করছি। কথা বলছি। তারপরেও কেন আমাকে নিরুদ্দেশ বলা হচ্ছে সেটা বুঝতে পারছি না।” তারপরেই নাম না করে তৃণমূলের নেতাদের কটাক্ষ করে বলেন ” আসলে আমাকে নয়। নিজেরা নিজেদের দলের অনেক নেতাদের দেখতে পাচ্ছেন না।

বেশিরভাগ ঘরে ঢুকে গিয়েছেন। আসলে শহরের মানুষ এঁদের প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাই আমার নাম জড়িয়ে ধরে আবার হারানো জমি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছেন।” পাশাপাশি এগুলি নোংরা রাজনীতি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন বিধানসভা অধিবেশনে ব্যস্ত থাকার কারণে বেশ কয়েকদিন শহরে থাকতে পারি নি।

কিন্তু তারমধ্যেই শহরের বিভিন্ন মানুষের সাথে যোগাযোগ ছিল। আর বিজেপির রাজ্য সম্পাদক তুষার মুখোপাধ্যায় এই ফ্লেক্স লাগানোর পেছনে তৃণমূল সরাসরি যুক্ত রয়েছে বলে জানালেন। পাশাপাশি কটাক্ষ করে বলেন ” সাধারনভাবে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে শাসকদলের নেতা ও মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে বেনামে কিংবা কোনো নাম উল্লেখ না করে এইধরনের ফ্লেক্স বা পোস্টার লাগায়।

আর এখানে তো উল্টো ব্যাপার। শাসকদল বিরোধী দলের একজন বিধায়কের বিরুদ্ধে ফ্লেক্স লাগাচ্ছে অথচ দলের নাম উল্লেখ করতে ভয় পাচ্ছে। আসলে খড়গপুরের তৃণমূলের নেতারা জানেন এটা একটা মিথ্যাচার করা হচ্ছে। তাই ফ্লেক্স লাগানোর দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন।” পাশাপাশি তিনি বলেন বিধায়ককে খড়গপুরে পাওয়া যায় না এই প্রচার সর্বৈব মিথ্যা।

তিনি বলেন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ যখন তুঙ্গে ছিল তখন একমাত্র এই বিধায়ক মানুষের পাশে ছিলেন। আর খড়গপুরের পুর প্রশাসক কাশ্মীর, পুরী এসব জায়গায় প্রমোদ ভ্রমণে ব্যস্ত ছিলেন। তার তথ্য প্রমাণ রয়েছে বলে তিনি জানালেন। যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন খড়গপুর পুরসভার প্রশাসক তথা প্রাক্তন বিধায়ক প্রদীপ সরকার।

তিনি বলেন যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে সেইসময় আমি না ছিলাম বিধায়ক। না দায়িত্বে ছিলাম পুরসভার। তখন পুরসভা পরিচালনার দায়িত্ব ছিল সরকারি আধিকারিকের। আর আমার বেড়াতে যাওয়াটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। আমি পরিবার নিয়ে বেড়াতে যেতেই পারি।” আর এই ফ্লেক্স লাগানোর বিষয়ে কিছু জানা নেই বলে তিনি বলেন ” শহরের সাধারন মানুষ লাগিয়েছেন।

এর সাথে দলের কোনও সম্পর্ক নেই। তবে এটাও ঠিক বিধায়ককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একটা সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য মানুষজনকে হন্যে হয়ে ঘুরতে হচ্ছে।”