Sunday, September 19, 2021
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরকাজের খোঁজে ভিনরাজ্যে গিয়ে, চন্দ্রকোনার যুবকের রহস্য মৃত্যু

কাজের খোঁজে ভিনরাজ্যে গিয়ে, চন্দ্রকোনার যুবকের রহস্য মৃত্যু

- Advertisement -

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: অভাবের সংসার। কাজ নেই করোনা পরিস্থিতিতে। এলাকার বহু ছেলে চেন্নাই সহ ভিন রাজ্যে। তাই পাড়ার ছেলের সঙ্গে কাজের খোঁজে চেন্নাই গিয়েছিলেন বাপ্পা টুডু।

কাজ করে সংসার বাঁচানো হলো না। চেন্নাই যাওয়ার পরেই মৃত্যু খবর আসলো পরিবারে। চেন্নাই থেকে মৃতদেহ উদ্ধারের খবর শুনে হতবাক পরিবারের লোকজন। পরিবারের অভিযোগ, মেরে ফেলা হয়েছে বাপ্পা কে। ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন মৃতের পরিবার।

- Advertisement -

 

জানা গিয়েছে, বাপ্পার বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা থানার যাদব নগরে। মৃত্যুর আগে দাদা কে ফোন করে বলেছিলেন, ‘দাদা আমাকে ওরা মেরে দেবে বলছে। আমাকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করো। নাহলে আর আমাকে জীবিত পাওয়া যাবেনা।’ ভাইয়ের এই কথা যে সত্য হবে, তা ভাবতে পারেনি দাদা। সত্যি ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদ এলো। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে চন্দ্রকোনার যাদবনগর গ্রামে।

 

বাপ্পার দাদা সোমনাথ টুডু বলেন, ‘পরিবারে অভাব। করোনা পরিস্থিতিতে কাজ নেই। ঘরে বসে বসে কী করবে? তাই এলাকার নয়ন বেরা নামে এক যুবকের সঙ্গে চেন্নাই গিয়েছিল কাজের খোঁজে। নয়ন ভাইকে নিয়ে গিয়েছিল সেখানে কাজ খুঁজে দেওয়ার জন্য। কোনও একতা কোম্পানিতে কাজ খুঁজে দেবে বলে নিয়ে গিয়েছিল। আমি নয়নকে বলে ছিলাম, ভাইকে দেখে শুনে রাখবে। টাকা পয়সা দরকার হলে দেবে। আমি তোমার টাকা শোধ করে দেবো।

অভিযোগ, বাপ্পাকে খুন করা হয়েছে। সোমনাথের কথায়, গত ১২ তারিখ নয়নের সঙ্গে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল ভাই। ১৪ তারিখ পর্যন্ত ফোনে কথা হলেও, ১৫ তারিখ আর যোগাযোগ করা যায়নি। হঠাৎ করে বাপ্পার ফোন, ‘দাদা আমাকে ওরা মেরে ফেলবে।

আমাকে বাড়ি নিয়ে চল।’ কেন মারবে? কারা মারবে? জিজ্ঞসা করলেও কিছু বলেনি। তারপর তিনদিন আগে খবর ভাইয়ের মৃতদেহ পাওয়া গেছে চেন্নাইতে। নয়ন ফোন করে জানাই। সোমনাথ বলেন, আমাদের ধারনা ভাইকে মেরে ফেলেছে। আমরা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছি। ঘটনার তদন্ত করে দেখুক পুলিশ। দোষীদের শাস্তি চাই।’

 

বাপ্পাকে মৃতর খবর শুনেই পরিবারের লোক দ্রুত চেন্নাই পৌঁছায়। সেখানে ময়না তদন্তের পর ২২ তারিখ বৃহস্পতিবার বাপ্পার মৃতদেহ নিয়ে আসা হয় চন্দ্রকোনার যাদবনগর গ্রামে। মৃত দেহ আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে স্থানীয়দের সুত্রে জানাগেছে, কয়েকমাস আগে কোনও একটা বিষয় নিয়ে নয়নের সঙ্গে বাপ্পার তুমুল গোলমাল হয়েছিল। তারপর সেই নয়নের সঙ্গেই কাজের খোঁজে যাওয়াই কি কাল হোল বাপ্পার? স্থানীয় বাসিন্দা প্রভাস প্রতিহার বলেন, ‘বাপ্পা ভালো ছেলে।

আমিও চেন্নাইতে সুতো কলে কাজ করি। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল বুঝতে পারছিনা! কাজের খোঁজে গিয়ে যুবকের রহস্য মৃত্যু নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!