Thursday, September 23, 2021
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরটোকিও অলিম্পিক্সে প্রণতি, মঙ্গল কামনায় রাত জাগল পুরো পিংলা

টোকিও অলিম্পিক্সে প্রণতি, মঙ্গল কামনায় রাত জাগল পুরো পিংলা

- Advertisement -

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: গ্রামের মেয়ের মঙ্গল কামনায় রাত জাগবে গোটা গ্রাম। পিংলার প্রত্যন্ত করকাই গ্রামের মেয়ে প্রণতি নায়েক টোকিও অলিম্পিক্সে জায়গা করে নিয়েছে। আজ ২৫শে জুলাই রবিবার অংশ নেবে জিমন্যাস্টিকে।

তার আগে, শনিবার গ্রামের চণ্ডী মন্দিরে গ্রামবাসীদের সঙ্গে মেয়ের মঙ্গল কামনায় পুজো দিলেন, প্রণতির বাবা-মা। রবিবার সকাল সাড়ে ছ’টায় প্রণতির পারফরম্যান্স শুরু। গ্রামের মেয়ের সাফল্য কামনায় রাত জেগে প্রার্থণা করবেন গ্রামবাসীরা। এলাকাবাসীর দৃঢ় বিশ্বাস, “টোকিও অলিম্পিক্সে সাফল্য ছিনিয়ে আনবে প্রণতি। দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে বাংলার মেয়ে।”

- Advertisement -

পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা ব্লকের প্রত্যন্ত করকাই চককৃষ্ণদাস গ্রামে ১৯৯৫ সালে জন্ম প্রণতি নায়েকের। ছোট বেলে থেকেই দুরন্ত। বাবা শ্রীমন্ত নায়েক বাস চালক। বর্তমানে লকডাউনে গাড়ি না চলায় বাড়িতেই রয়েছেন। মাঝে মধ্যে একশো দিনের প্রকল্পে কাজ করেন।  বা কেউ কোথাও ছোট গাড়ি চালানোর জন্য ডাকলে যান। মা প্রতিমা নায়েক সাধারণ গৃহবধূ।

প্রণতির বাবা শ্রীমন্ত নায়েকের কথায়, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই জিমন্যাস্টিকে আগ্রহ। একবার স্কুল ক্রিড়ায় জেলা স্তরে প্রথম স্থান অর্জন করার পর রাজ্যেও প্রথম হয়। তখন শুভাশিস চক্রবর্তী নামে গ্রামের একজন প্রশিক্ষণ দিতেন। গ্রামের স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর কলকাতার সুকান্তনগর স্কুলে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করি।

‘সাই’ এর কোচ মিনারা বেগমের কাছে জিমন্যাস্টিক শেখার জন্য ভর্তি করি। তারপর চন্ডীগড়ে ন্যাশনাল চাম্পিয়ানশিপে সাফল্য জিনিয়ে আনে। এরপর থেকে একের পর এক সাফল্য আসে প্রণতির। তিনি বলেন, অলিম্পিক্সে সুযোগ পাওয়ার খবরে গর্বিত গোটা গ্রাম, গোটা বাংলা, গোটা ভারতবর্ষ। আমাদের বিশ্বাস সাফল্য পাবেই প্রণতি।’

রবিবার সকাল সাড়ে ৬ টায় বাংলার পাশাপশি টিভির পর্দায় চোখ রাখবে গোটা দেশ। ‘বাংলার মেয়ে’ প্রণতির পারফরম্যান্স দেখার জন্য অধীর আগ্রহে সকলেই। শনিবার চণ্ডী মন্দিরে বসে প্রণতির মা প্রতিমা নায়েক বলেন, ‘আমার তিন মেয়ের মধ্যে মেজ মেয়ে প্রণতি ছোট থেকেই দুরন্ত। ওর মামা-মামীরা ভর্তি করে দিয়েছিল জিমন্যাস্টিক্সে।

আজ এত দূরে পৌঁছতে পেরেছে মেয়ে, গর্বতো আমাদের হবেই। তিনি বলেন, সকালে টোকিও থেকে ভিডিও কল করেছিল মেয়ে। সেখানকার কীসুন্দর পরিবেশ আমাদের দেখাল। বলল, “মা এখানের খাবার খেতে একটু সমস্যা হচ্ছে, বাকি সব ঠিক আছে। তোমরা একদম চিন্তা কোরো না। আমি আপ্রাণ চেষ্টা করব। পদক জিতে দেশের মুখ রক্ষা করব। তোমাদের মুখ রক্ষা হবে”।

মেয়ে নামবে টোকিও’র মাঠে। বাড়িতে কত মানুষের ভিড়। কেউ বলছেন, দাদা মেয়ের খেলা কটায়? কেউ কাকা খেলাটা কখন দেখা যাবে? মেয়ের টোকিও তে, গ্রামে রীতি মতো সেলিব্রেটি প্রণতির বাবা-মা। গ্রামবাসীদের পাশাপশি সামলাতে হচ্ছে সংবাদ মাধ্যমের লোকজনকেও।

শ্রীমন্ত নায়েক বলেন, ‘মেয়ের জন্য চিন্তা তো হচ্ছেই। অলিম্পিক্সে খেলার জন্য আরও একটু বেশি অনুশীলনের সুযোগ দরকার ছিল। করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রায় এক বছর গ্রামের বাড়িতে থাকতে হয়েছিল মেয়েকে।

বাড়িতেই প্র্যাকটিস করছিল। পরে বারাসতে সমন্বয়ের মাঠ এবং কোচ লক্ষ্মণ শর্মার কাছে কলকাতার স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিইয়া (সাই) তে মাত্র দুই মাস অনুশীলন। আমাদের বিশ্বাস ওর ইচ্ছে শক্তি ওর সাফল্য আনবে।’

পিংলার করকাই গ্রামের বাসিন্দা নগেন শাসমল, রিনু দাস মালাকার, কুলপুরোহিত অশোক ভট্টাচার্যরা বলেন, ‘আজ আমরা সারা রাত জেগে প্রণতির জন্য প্রার্থণা করব। যেন পদক জয় করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে।’ পূর্ণচন্দ্র পাখিরা, শম্ভু মাইতি, অক্ষয় চাকড়ারা বলেন, দু-দিন আগে বাজ পড়ে গ্রামে অনেকের সেটটপ বক্স পুড়ে গিয়েছিল।

আমরা কেবল অপারেটরকে বলেছি। প্রণতিদের বাড়ি সহ যেন গ্রামের সবার কেবল লাইন ঠিক থাকে। রবিবারের সকালটা আমাদের কাছে অন্য রকমের। স্মরণীয় করে রাখতে চায় এই দিনটাকে।’

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!