Sunday, September 26, 2021
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরখড়গপুরে এটিএম গুলিকাণ্ডে,তৃণমূল নেতার বাড়িতে হানা পুলিশের

খড়গপুরে এটিএম গুলিকাণ্ডে,তৃণমূল নেতার বাড়িতে হানা পুলিশের

- Advertisement -

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: গুলি কান্ডের তদন্তে এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে পুলিশ যাওয়ার পর ধুন্ধুমার কান্ড ঘটে গিয়েছে। পুলিশের সাথে রীতিমতো ধ্বস্তাধ্বস্তি হয় তৃণমূল নেতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে।

তাতে খড়গপুর টাউন থানার এক সাব ইন্সপেক্টরের হাতে চোট লাগে। অপরদিকে সুনীল ওরফে বাচ্চা সোনকার নামে তৃণমূল নেতা জখম হয়ে বর্তমানে খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাঁর মাথায় চোট লেগেছে বলে জানা গিয়েছে।

- Advertisement -

অভিযোগ উঠেছে টাউন থানার ওই সাব ইন্সপেক্টর মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন।ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সন্ধ্যাবেলায় খড়গপুর শহরের দেবলপুর এলাকায়। ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে পুলিশের ভূমিকায় সরব হয়েছেন খড়গপুর শহর তৃণমূলের নেতারা।

উচ্চ পর্যায়ের পুলিশী তদন্তের দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটিকে অপ্রত্যাশিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও পুলিশের দাবি সমস্ত নিয়ম মেনে ওই তৃণমূল নেতার বাড়িতে যাওয়া হয়েছিল। কাউকেই মারধর করা হয়নি। মঙ্গলবার সকাল এগারোটা নাগাদ খড়গপুর শহরের গোলবাজার এলাকায় একটি এটিএম ভ্যান থেকে টাকা লুঠের উদ্দেশ্যে দুষ্কৃতীরা চড়াও হয়।

চার রাউন্ড গুলি চালায়। ঘটনায় এক নিরাপত্তা রক্ষী সহ মোট দুজন গুলিবিদ্ধ হন। যদিও দুষ্কৃতীরা টাকা লুঠ করতে পারে নি। এই ঘটনার তদন্তে নেমে খড়গপুর টাউন থানার পুলিশ দেবলপুর এলাকায় এক তৃণমূল নেতা সুনীল সোনকারের বাড়িতে পৌঁছায়। গুলিকান্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ তৃণমূল নেতা সুনীল সোনকারের বড় ভাইয়ের নাম জানতে পারে।

তারপরেই তৃণমূল নেতার ভাইকে থানায় ডেকে পাঠানো হয়। কিন্তু তিনি পুলিশের ডাকে সাড়া দেন নি। এমনকি শেষ সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পরও বিকাল পাঁচটার মধ্যে থানায় হাজির হয় নি। তারপরেই সন্ধ্যাবেলায় থানার সাব ইন্সপেক্টর মাকারাম চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী দেবলপুর এলাকায় এই তৃণমূল নেতার বাড়িতে পৌঁছায়।

ঘটনার সূত্রপাত এই পুলিশ বাহিনী পৌঁছানোর পর থেকে। অভিযোগ তৃণমূল নেতার বাড়িতে পৌঁছানোর পরই পুলিশকে বাধা দেওয়া শুরু হয়। বারবার তৃণমূল নেতার ভাইকে ডাকা হলেও কোনও সাড়া পাওয়া যায় নি। অভিযোগ এরপরেই পুলিশ মারমুখী হয়ে ওঠে।

জোর করে বাড়ির ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে পুলিশ বাহিনী। তখন বাধা দেওয়া হলে পুলিশ  তৃণমূল নেতার বাবাকে মারধর করার পাশাপাশি মহিলাদের হেনস্তা করে বলে অভিযোগ। আর ধাক্কা দেওয়া হয় তৃণমূল নেতা সুনীল সোনকারকে। ধাক্কা খেয়ে তিনি পড়ে যান। খাটের কোণায় লেগে মাথায় আঘাত পান।

আর বেহুঁশ হয়ে পড়েন। এদিকে এই ঘটনার খবর জানাজানি হয়ে যাওয়ার পর প্রচুর তৃণমূল কর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। উপস্থিত হয়ে যান আইএনটিটিইউসির খড়গপুর শহর কমিটির সভাপতি তপন সেনগুপ্ত সহ অন্যান্য নেতারা। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে পৌঁছে যান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খড়গপুর) রানা মুখোপাধ্যায়, খড়গপুর টাউন থানার আইসি বিশ্বরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় সহ আরও অনেক পুলিশ।

এই ব্যাপারে আইএনটিটিইউসির খড়গপুর শহর কমিটির সভাপতি তপন সেনগুপ্ত বলেছেন ” পুলিশ মোটেই ঠিক কাজ করে নি। এক মদ্যপ অফিসারের নেতৃত্বে এইভাবে বাড়িতে পুলিশ পাঠানো উচিত কাজ হয় নি। ঘটনার তদন্তের জন্য কাউকে ডেকে পাঠানোর দরকার হলে থানাতেই ডেকে পাঠাতে পারত।

কিন্তু এইভাবে বাড়িতে গিয়ে মহিলাদের হেনস্তা করা ও পুরুষদের মারধর করা ঠিক হয় নি।” গোটা ঘটনাটি দলের উপর মহলে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানালেন। আর তৃণমূলের খড়গপুর শহর কমিটির সভাপতি রবিশংকর পান্ডে বলেছেন ” ঘটনাটি শুনেছি। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ রয়েছে। গোটা ঘটনার উচ্চ পর্যায়ের পুলিশী তদন্ত করা হোক।

তাহলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হয়ে যাবে।” অপরদিকে খড়গপুর পুরসভার প্রশাসক তথা প্রাক্তন বিধায়ক প্রদীপ সরকার বলেছেন ” দলীয় রিপোর্ট পাওয়ার পর সবকিছু বলা যাবে। তবে ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত। না হলেই ভালো হত।” এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খড়গপুর) রানা মুখোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন কোনও বেনিয়ম করা হয়নি।

সমস্ত নিয়ম মেনে দেবলপুরে ওই সন্দেহভাজনের বাড়িতে যাওয়া হয়েছিল। আর অভিযানের সময় কোনও পুলিশ মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন না।” পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া ও মারধর করার অভিযোগে তৃণমূল নেতা সুনীল সোনকার সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!