Sunday, September 26, 2021
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরBREAKING: টানা বৃষ্টিতে খড়গপুরে রেললাইনে ধস,ব্যাহত রেল চলাচল

BREAKING: টানা বৃষ্টিতে খড়গপুরে রেললাইনে ধস,ব্যাহত রেল চলাচল

- Advertisement -

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: শ্রাবণের অবিরাম ধারায় ভাসল গোটা খড়গপুর শহর। ধস নামল রেললাইনে। ওভারহেড লাইনের খুঁটি উপরে পড়ল। সবমিলিয়ে বুধবার এক রাতের টানা বৃষ্টিতে খড়গপুর শহরের বেহাল নিকাশি ব্যাবস্থা আরও ভয়ংকরভাবে বেআব্রু হয়ে গেল। অসহায় পুরসভা।

দিশাহীন প্রশাসন। তবে রেললাইনের নিচে ধস মেরামতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত অবিরাম ধারায় বৃষ্টি হয়েছে। আর এই বৃষ্টিতে বৃহস্পতিবার ভোররাতে ধস নেমেছে খড়গপুর স্টেশনে ঢোকার আগে হাতিগোলা রেলসেতুর কাছে। প্রায় ১৬ থেকে ১৭ ফুট জায়গা জুড়ে এই ধস নেমেছে।

- Advertisement -

বস্তুত এইদিন সকাল থেকেই রেলের খড়গপুর ডিভিশনের পক্ষ থেকে এই ধস মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। তবে এই ধসের জন্য ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয় নি বলে রেল কর্তৃপক্ষের দাবি। শুধুমাত্র ডাউন লাইনটি বন্ধ রাখা হয়েছে। আপ ও মিডল লাইন দিয়ে ট্রেন চালানো হয়েছে। খড়গপুর স্টেশনে ঢোকার আগে একেবারে প্রান্তিক লাইনে এই ধস নেমেছে। এই লাইন দিয়ে কোনও যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করে না।

শুধু মালগাড়ি চলাচল করে। আর এই ধস নামার আগে ও পরে কোনও মালগাড়ি এই লাইন দিয়ে যাওয়ার নির্ঘণ্ট ছিল না। ফলে অনেক বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া গিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেল আধিকারিক জানিয়েছেন যদি সেইসময় কোনও গুডস ট্রেন ঢুকে যেত তাহলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারন করত। এদিকে টানা বৃষ্টিতে খড়গপুর স্টেশনের দক্ষিণ প্রান্তে সাবওয়ে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।

আর রেললাইনের উপরেও জল জমেছে। তবে এর জন্য ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয় নি। এই ব্যাপারে রেলের খড়গপুর ডিভিশনের ডিআরএম মনোরঞ্জন প্রধান জানিয়েছেন ধসের কারনে কিংবা রেললাইনে জল জমে যাওয়ার জন্য ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয় নি। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তবে ডাউন লাইনটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

পাশাপাশি ধস মেরামতের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে বলে তিনি জানালেন। এদিকে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত অবিরাম বৃষ্টিতে গোটা খড়গপুর শহর জলে ভাসল। শহরের আনন্দনগর থেকে শুরু করে নিউটাউন, বামুনপাড়া, কৌশল্যা, পুরাতনবাজার, ঝাপেটাপুর,ঝুলি, ছোটো ট্যাংরা, মালঞ্চ, খড়িদা সহ আরামবাটি, ভবানীপুর ও বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।

এবারে ছাড় পায় নি খড়গপুর কলেজের সামনে খড়গপুর মহকুমা শাসকের আবাসন এলাকা সহ পাশের পূর্ত দফতরের কর্মীদের আবাসন চত্বর। মহকুমা শাসককেও এইদিন সকালে এক হাঁটু জল ভেঙ্গে বেরোতে হয়েছে। আর পূর্ত দফতরের কর্মীদের আবাসন চত্বরে কোমর সমান জল। এখানের বাসিন্দা পূর্ত দফতরের কর্মীদের অধিকাংশের কোয়ার্টারে জল ঢুকে পড়েছে।

কোমর সমান জলে কোনমতে রাতটুকু পার করার পর বৃহস্পতিবার বেলা গড়াতেই বেশির ভাগ আবাসন বাসিন্দারা বাড়ির আসবাবপত্র থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে তৎপর হয়ে উঠেন। গাড়ি ভাড়া করে জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়েছেন। বাদ যায় নি খড়গপুর মহকুমা হাসপাতাল চত্বর। এখানেও জল জমেছে। এককথায় গোটা শহর এখন কার্যত জলের তলায়।

এই ব্যাপারে খড়গপুর পুরসভার প্রশাসক প্রদীপ সরকার পরিস্থিতির ভয়াবহতা অস্বীকার করেন নি। তিনি জানিয়েছেন এইদিন খড়গপুর মহকুমা শাসকের উপস্থিতিতে গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়েছে। পুরো পরিস্থিতি জেলাশাসককে জানানো হয়েছে। আর ঠিক হয়েছে আপাতত কয়েকটি পাম্প চালিয়ে জল সরানোর ব্যবস্থা করা হবে। তবে শহর জলে ডুবে যাওয়ার জন্য তিনি রেল ও আইআইটি কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন।

তিনি বলেছেন ” রেল ও আইআইটির জলে ভাসল খড়গপুর শহর।” পাশাপাশি তিনি নিকাশি নালাগুলি পরিষ্কার রাখার জন্য নাগরিকদের সচেতনতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন নালাগুলোতে আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে। আর খড়গপুর মহকুমা শাসক আজমল হোসেন জানিয়েছেন শহরের জল জমার সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!