Saturday, August 13, 2022
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরজলবন্দি ঘাটালে,বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়
Advertisement

জলবন্দি ঘাটালে,বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়

Advertisement

Advertisement

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ হচ্ছে ঘাটালে। শহরের বিস্তৃর্ণ এলাকা জলমগ্ন। রবিবার ভোরে শিলাবতী নদীর জলের তোড়ে মহকুমা শাসকের দপ্তরের প্রাচীর ভেঙে পড়েছে। জল ঢুকেছে মহকুমা শাসকের কার্যালইয়, ঘাটাল উপ সংশোধনাগার সহ বেশকিছু এলাকায়।

- Advertisement -
Advertisement
- Advertisement -

সংশোধনাগারের ভেতরে কোমর সমান জল। সংশোধনাগারে থাকা ৬১ জন বন্দিকে সরানো হয়েছে মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে। জলবন্দি মানুষজনকে উদ্ধারের কাজ করছে এনডিআরএফ ও এসডিআরএফের কর্মীরা। রবিবার চন্দ্রকোনার মনসাতলা এলাকায় জলে ডুবে থাকা রাস্তা পার হতে গিয়ে অভিরাম খামরই নামে এক ব্যক্তি জলে তলিয়ে গেছে। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চলছে।

দু-দিনের টানা বৃষ্টির পর নদীর জল বেড়ে প্লাবিত হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল, চন্দ্রকোনা, দাসপুর, কেশপুরের বেশকিছু এলাকা। অতিবৃষ্টি হলেই শিলাবতী নদীর জল উপচে জল জমে ঘাটাল শহর এলাকায়। এবার আগেই পৌরসভার বেশকয়েকটি ওয়ার্ড জলমগ্ন হয়েছে।

শিলাবতী নদীর জলস্তর এতটাই বেড়েছে যে চন্দ্রকোনা-১ ও ২ ব্লকের ৫টি জায়গায় নদীর বাঁধ ভেঙেছে। বৃষ্টি থামার পর কেশপুর, চন্দ্রকোনা এলাকায় কিছুটা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও, অবনতি হচ্ছে ঘাটাল এলাকায়। ঘাটাল শহরের পাশাপশি প্লাবিত হয়েছে ঘাটাল ব্লকের শিমুলিয়া, রাণীরবাজার, বরদা-চৌকন, অজবনগর সহ বিস্তৃর্ণ এলাকা।

ঘাটাল-চন্দ্রকোনা রাজ্য সড়ক জলের তলায় চলে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ। ঘাটালের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে ক্ষীরপাই, চন্দ্রকোনা, রামজীবনপুর, আরামবাগ, তারকেশ্বর, বর্ধমানের। দুর্ভোগের শেষ নেই মানুষের।

তিন দিন আগে থেকে ঘাটালের বিভিন্ন এলাকায় জল ঢুকতে শুরু করলেও রবিবার পর্যন্ত সর্বত্র নৌকা, ত্রাণ সামগ্রী বা পানীয় জল পৌঁছায়নি। জেলা প্রশাসনের তরফে দুর্গত মানুষজনকে উদ্ধার করে, তাঁদের কে দ্রুত ত্রাণ সামগ্রী, শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

ক্ষোভ জমছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। ঘাটালের মহকুমা শাসক সুমন বিশ্বাস বলেন, ‘দুর্গত মানুষজন দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয় শিবিরে আনার কাজ চলছে। সর্বত্র নৌকা ও খাদ্য সামগ্রী পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। গোটা পরিস্তিতির উপর নজর রাখা হয়েছে।’

গোটা এলাকা জলবন্দি হচ্ছে দেখে শুক্রবার থেকে সাধ্য মতো জিনিসপত্র নিয়ে বাড়ি ছেড়েছেন সরস্বতী বেহেরা, শ্যামা বেহেরা, মৌসুমী বেহেরা, রণজয় পাল’রা। আশ্রয় নিয়েছেন ঘাটালের রাণীরবাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়য়ে। সেখানেও জল উঠেছে স্কুলের বারান্দা পর্যন্ত।

রাণীরবাজারের রণজয় পাল, মৌসুমী বেহেরা, দীপক সামন্ত, সুমি মান্ডিরা বলেন, ‘তিন দিন হয়ে গেল কারোর দেখা নেই। একটা দানা খাবার দূরের কথা খাবার জলটুকু পর্যন্ত কেউ ব্যবস্থা করেনি। একটা নৌকা পর্যন্ত নেই। রাজ্য সড়কের উপর গলা সমান জল। ছেলে-মেয়ে, ছাগল, গরু নিয়ে কী কষ্টে দিন কাটছে তা বলার নয়।’ বহু মানুষ ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন স্থানীয় নেতৃত্ব, পঞ্চায়েত, প্রশাসনের উপর।

ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির সহকারি সভাপতি দিলীপ মাজি বলেন, ‘ঘাটালে খুব খারাপ পরিস্থিতি। মানুষের ক্ষোভ হওয়াটা স্বাভাবিক। সব জায়গায় নৌকা, ত্রাণ সামগ্রী, পানীয় জল ব্যবস্থা করা যায়নি। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি। দুর্গত, জলবন্দি মানুষের কাছে তাঁদের ন্যূনতম প্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দেওয়ার।’

গাহটাল পৌরসভার পৌর প্রশাসক বিভাশঘোষ বলেন, ‘২০১৭ সালের পর এতবড় বন্যা আর হয়নি। সেবার ঘাটালের প্রতাপপুরে শিলাবতী নদীর বাঁধ ভেঙে পুরো এলাকা ভেসে গিয়েছিল। এবার আবার ঘাটালের ১৭ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টি ওয়ার্ড জলমগ্ন। তিনি বলেন, আমরা সর্বত্র শুকনো খাবার দিচ্ছি, শিবিরে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে।’

শনিবার রাত থেকে আতঙ্ক ছড়িয়েছে প্রতাপপুরের নদীবাঁধ নিয়ে। এলাকায় রটেছে প্রতাপপুরে শিলাবতী নদী বাঁধ দিয়ে জল ঢুকছে। কেউ বলছেন যেকোনও সময় ভেঙে যেতে পারে। ২০১৭ সালের কথা মাথায় রেখে অনেকে আগে থেকেই নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছেন। যদিও সেচ দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, আতঙ্কিত হওয়ার ব্যাপার নেই। নদী বাঁধের উপর দিন-রাত্রি নজর রাখা হয়েছে।’

 

Advertisement

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!