Thursday, September 23, 2021
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরঅক্সিজেনের অভাবে সদ্যোজাত শিশু মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে

অক্সিজেনের অভাবে সদ্যোজাত শিশু মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে

- Advertisement -

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: অক্সিজেনের অভাবে সদ্যজাত এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠল খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার দুপুরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয় হাসপাতালে। যদিও খড়গপুর টাউন থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আর ঘটনার তদন্তের জন্য দুটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জানা গিয়েছে শনিবার রাতে হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে খড়গপুর পুরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাঁজোয়াল এলাকার সাবিনা বেগম নামে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে ভর্তি করা হয়। রবিবার সকাল দশটা নাগাদ তিনি এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। প্রথম মেয়ের পর এই পুত্র সন্তান হওয়ার আনন্দে পরিবারের সকলে খুশীতে ছিলেন।

- Advertisement -

যদিও জন্মের পর থেকেই শিশুটির শ্বাসকষ্ট ছিল। তাকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে শিশুটিকে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি জানানো হয় শিশুটির পরিবারের সদস্যদের। তারপর ডেকে পাঠানো হয় হাসপাতালের ১০২ অ্যাম্বুলেন্স।

ঘটনার সূত্রপাত এখান থেকে শুরু হয়। অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর পর দেখা যায় অক্সিজেন ব্যবস্থা বিকল হয়ে রয়েছে। ততক্ষণে শিশুটিকেও ওয়ার্ড থেকে অক্সিজেন ব্যবস্থা না করেই ছেড়ে দেওয়া হয়। তখন শিশুটির পরিবারের সদস্যরা ফের ওয়ার্ডে যান। একটি অক্সিজেনের ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেন। তারমধ্যে দ্বিতীয় ১০২ অ্যাম্বুলেন্স ডেকে পাঠানো হয়। কিন্তু দেখা যায় সেটিতেও অক্সিজেন ব্যবস্থা বিকল হয়ে রয়েছে।

শিশুটির অবস্থা ক্রমশ সঙ্কটজনক হতে শুরু করে। তখন ফের ওয়ার্ডের নার্সদের একটি অক্সিজেনের ব্যবস্থা করার অনুরোধ করা হলে নাকচ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আর এই অক্সিজেনের ব্যবস্থা করার দৌড়ঝাঁপের মধ্যে মায়ের কোলে শিশুটি নেতিয়ে পড়ে। হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে জানিয়ে দেন শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

তারপরেই শিশুটির পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ওয়ার্ডে গিয়ে টেবিল পেটাতে শুরু করেন। চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এই ব্যাপারে শিশুটির বাবা সেখ জাহাঙ্গীর বলেছেন ” একটি অক্সিজেনের অভাবে আমার বাচ্চা মারা গিয়েছে।” তিনি আরও বলেন অক্সিজেনের জন্য টাকা দিতে হলে দিতাম। কিন্তু এইভাবে একটি অক্সিজেনের জন্য এত হয়রানি হয়ে সন্তানের মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না।

এদিকে হাসপাতালের সুপার কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন ঘটনার তদন্তের জন্য দুটি কমিটি গঠন করা হবে। তারমধ্যে একটি বিভাগীয়। খতিয়ে দেখা হবে নার্সদের ভূমিকা।

জানতে চাওয়া হবে কেন ওয়ার্ড থেকে গেট পর্যন্ত অক্সিজেন ব্যবস্থা করা হয় নি। আর দ্বিতীয়টি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা নিয়ে। যদিও এই অংশটি হাসপাতালের এক্তিয়ার ভুক্ত নয়। তাই তদন্তের জন্য জেলা স্বাস্থ্য দফতরে চিঠি দেওয়া হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!