Sunday, September 19, 2021
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরখড়গপুর শহরে প্রদীপ সরকারের উপরেই আস্থা দলনেত্রীর

খড়গপুর শহরে প্রদীপ সরকারের উপরেই আস্থা দলনেত্রীর

- Advertisement -

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: নির্বাচনে পরাজিত হলেও খড়গপুর শহরে সেই প্রদীপ সরকারের উপরেই আস্থা রাখলেন দলনেত্রী। তারসাথে একেবারে ব্রাত্য করে দেওয়া হয়েছে বিদ্রোহী নেতা দেবাশিস চৌধুরী ও তাঁর ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন পুরপ্রধান রবিশংকর পান্ডেকে।

সোমবার গোটা রাজ্যে বিভিন্ন পুরসভার সাথে খড়গপুর পুরসভাতেও নতুন প্রশাসনিক বোর্ড গঠন করা হয়েছে। নতুন এই প্রশাসনিক বোর্ডে নয়জনকে রাখা হয়েছে। তারমধ্যে সাতজন বিদায়ী কাউন্সিলর রয়েছেন। আর দুজন নেতা।  সেখানে প্রদীপ সরকারকে ফের পুর চেয়ারপারসন করা হয়েছে। আর ভাইস চেয়ারপারসন করা হয়েছে বিদায়ী উপ- পুরপ্রধান শেখ হানিফ ও সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া অবসরপ্রাপ্ত দমকল আধিকারিক শতদল বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

- Advertisement -

এছাড়া রয়েছেন কল্যাণী ঘোষ, নাফিসা খাতুন, অঞ্জনা সাকরে, ভেঙ্কট রামনা, লক্ষ্মী মুর্মু ও দেবাংশু গঙ্গোপাধ্যায়। এই ছয়জনের মধ্যে দেবাংশু গঙ্গোপাধ্যায় নির্বাচিত কাউন্সিলর নয়।  বাদ পড়লেন এ পূজা নায়ডু, জগদম্বা গুপ্তা, তৈমুর আলি, সুরেশ যাদব ও তুষার চৌধুরী। বাদ পড়া এই চারজনের মধ্যে প্রথম তিনজন প্রদীপ ঘনিষ্ঠ। আর তুষার চৌধুরী হলেন দেবাশিস চৌধুরী ঘনিষ্ঠ।

এবারে নতুন পুর প্রশাসনিক বোর্ডে প্রত্যেকে খড়গপুর শহরে প্রদীপ ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। রাখা হয় নি বিদ্রোহী নেতা দেবাশিস চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ কাউকেই। এদিকে দলের মধ্যেও যা কিছু পরিবর্তন হয়েছে তাতে প্রদীপ সরকারের একছত্র ক্ষমতা বজায় রইলো। তৃণমূলের খড়গপুর শহর কমিটির সভাপতি হিসাবে মনোনীত করা হয়েছে পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ দীপেন্দু পালকে।

তিনিও প্রদীপ ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। ফলে দলে ও পুর প্রশাসনিক মহলে প্রদীপ সরকারের আধিপত্য বজায় রইলো। এদিকে নেতাকে সর্বস্তরে একেবারে ব্রাত্য করে দেওয়ায় রীতিমতো হতাশা নেমে এসেছে দেবাশিস চৌধুরীর অনুগামীদের মধ্যে। এই শিবিরের ধারনা হয়েছিল তাঁদের নেতাকে সম্মানজনক ও গুরুত্বপূর্ণ কোনও পদ দিয়ে পুনর্বাসন দেওয়া হবে।

সেই নিয়ে দেবাশিস অনুগামীরা প্রচন্ডভাবে আশায় বুক বেঁধেছিলেন। যদিও এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হলেন না দেবাশিস চৌধুরী। তিনি বললেন ” এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না। আমি এইসব নিয়ে কিছু ভাবছি না।” তবে আগামীদিনে দেবাশিস চৌধুরী ও রবিশংকর পান্ডে সহ বাকি অনুগামীরা কি করবেন কিংবা কোন পথে এগোবেন সেই নিয়ে গোটা শহরে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে।

যদিও সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর দীপেন্দু পাল খড়গপুর শহরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে দীর্ণ দলের সব গোষ্ঠীকে নিয়ে চলার বার্তা দিতে শুরু করেছেন। খুব সাবধানে এগোতে চাইছেন। ইতিমধ্যে দেবাশিস চৌধুরী ঘনিষ্ঠ দলের সতেরো নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি সুখময় প্রধান ফোন করে দলের শহর কমিটির নতুন সভাপতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

ফেসবুকে দেবাশিস ঘনিষ্ঠ এক মহিলা নেত্রী ঐক্যবদ্ধ হয়ে চলার কথা উল্লেখ করে লম্বা পোস্ট করেছেন। এই ব্যাপারে দীপেন্দু পাল বলেছেন ” আমি তাড়াহুড়ো করতে চাই না। ধীরেসুস্থে সকলের সাথে কথা বলে সবটা বুঝে এগোতে চাই।” তবে সামনে পুরসভা নির্বাচন। তাই দীপেন্দুবাবু শেষ পর্যন্ত কতটা সময় পাবেন সেই নিয়ে সংশয় রয়েছে।

আর পুর প্রশাসনিক বোর্ডের চেয়ারপারসন প্রদীপ সরকার বলেছেন ” এই নতুন বোর্ড যেটুকু সময় পেয়েছে তারমধ্যে কিছু উন্নয়নের কাজ করবে।” মঙ্গলবার বিকালে নতুন পুর প্রশাসনিক বোর্ড একটি বৈঠক করেছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!