Thursday, September 23, 2021
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরখড়গপুরে শহরে সংগঠনে জোর তৃণমূলের নতুন সভাপতি দীপেন্দু পালের

খড়গপুরে শহরে সংগঠনে জোর তৃণমূলের নতুন সভাপতি দীপেন্দু পালের

- Advertisement -

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: মেরেকেটে আর চার মাস বাকি খড়গপুরে পুরসভা নির্বাচনের। ফলে হাতে সময় খুব কম। তারই মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে দীর্ণ সংগঠনকে এক সুতোয় বাঁধতে হবে। আর এই কঠিন কাজটি এখন করতে হবে খড়গপুর শহরে তৃণমূলের নতুন সভাপতি দীপেন্দু পালকে। সোমবার তিনি তৃণমূলের খড়গপুর শহর সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

দায়িত্ব পেয়েই তিনি এখন নতুন করে সংগঠন তৈরীর কাজে হাত দিয়েছেন। এই মুহূর্তে খড়গপুর শহরে শাসকদলের চারটি গোষ্ঠী রয়েছে। তারমধ্যে তৃণমূলের জেলা কমিটির তৎকালীন মুখপাত্র তথা সাধারন সম্পাদক দেবাশিস চৌধুরী ও প্রাক্তন শহর সভাপতি রবিশংকর পান্ডে ও তাঁদের অনুগামীদের একেবারে ছেঁটে ফেলা হয়েছে। দল ও পুর প্রসাশনের কোথাও তাঁদের রাখা হয় নি। পাশাপাশি গুরুত্ব দেওয়া হয় নি প্রাক্তন পুরপ্রধান তথা তৃণমূলের প্রবীণ নেতা জহরলাল পালকেও।

- Advertisement -

যদিও তিনি বর্তমান পুরসভা চেয়ারপারসন প্রদীপ সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। কিন্তু গোষ্ঠী বিন্যাসে প্রদীপের ঘোরতর বিরোধী দেবাশিস চৌধুরী ও রবিশংকর পান্ডের বিরুদ্ধে বিধানসভা নির্বাচনের পরেই অভিযোগ উঠেছিল অন্তর্ঘাতের। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে প্রার্থী হতে না পারায় রীতিমতো বিদ্রোহ ঘোষণা করেন দেবাশিস চৌধুরী। প্রকাশ্যে ঘোষণা করে তিনি গোটা বিধানসভা নির্বাচন পর্বে নিজেকে একেবারে সরিয়ে নিয়েছিলেন। তখনই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে খড়গপুর শহরে দলীয় প্রার্থী প্রদীপ সরকারের বিরুদ্ধে গোপনে বিজেপি প্রার্থীর পক্ষে প্রচার করার।

পরবর্তীকালে প্রদীপ সরকার পরাজিত হওয়ার পর সেই অভিযোগ জোরালো হয়। আর রবিশংকর পান্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে দলের সভাপতি হিসাবে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে ও সাংগঠনিক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা না নিয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকার। এই জায়গা থেকে খড়গপুর শহরে সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য নতুন করে ভাবতে হচ্ছে সদ্য সভাপতি হওয়া দীপেন্দু পালকে। যদিও তিনি আশাবাদী সংগঠনকে শক্তিশালী করার কাজে সকলের সহযোগিতা পাওয়ার ব্যাপারে। হাতে সময় কম থাকলেও তিনি বুঝেশুনে এগোতে চাইছেন।

অযথা তাড়াহুড়ো করতে নারাজ। আর এখনই পূর্ণাঙ্গ শহর কমিটি গঠন করতে না পারলেও সকলকে নিয়ে একটি কোর কমিটি তৈরি করবেন বলে ঠিক করেছেন। পাশাপাশি দলের শহর কমিটির কোনও স্থায়ী কার্যালয় না থাকায় আপাতত নিজের আট নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয় ও কুড়ি নম্বর ওয়ার্ডের পুর চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে দৈনন্দিন কাজ চালাবেন বলে জানালেন। পাশাপাশি দীপেন্দু পাল বলেছেন সংগঠন শক্তিশালী করার জন্য একেবারে বুথ স্তর থেকে শুরু করে নতুন ওয়ার্ড ও শহর কমিটি তৈরি করা দরকার।

আর সেই চেষ্টা আমি করবো সকলের সহযোগিতা নিয়ে। তবে হাতে সময় কম। তাই পুরসভা নির্বাচনের আগে একটি অস্থায়ী কোর শহর কমিটি তৈরি করে ফেলতে হবে। যাতে দৈনন্দিন কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে সুবিধা হয়। এছাড়া দলের পাঁচটি শাখা সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানালেন। কারন মূল সংগঠনের সাথে শাখা সংগঠনগুলির সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন দলের অনুমোদন ছাড়া কাউকে সংগঠনের সমান্তরাল কর্মসূচি করতে দেওয়া হবে না বলে তিনি সাফ জানালেন। তবে ইতিমধ্যে বিদ্রোহী শিবিরের অনেকেই যোগাযোগ করেছেন বলে তিনি জানালেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!