Sunday, September 19, 2021
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরখড়গপুরে দেখা নেই বিধায়কের,আধার কার্ডের ফর্মে সই করতে ভরসা হাসপাতাল সুপার

খড়গপুরে দেখা নেই বিধায়কের,আধার কার্ডের ফর্মে সই করতে ভরসা হাসপাতাল সুপার

- Advertisement -

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: বিধায়কের কাজ করছেন হাসপাতাল সুপার। আশ্চর্যের বিষয় হলেও ঘটনাটি একেবারে সত্যি। এখন গোটা খড়গপুর শহর জুড়ে নতুন আধার কার্ড তৈরী করা থেকে শুরু করে আধার কার্ডের বিভিন্ন সংশোধনের কাজ চলছে।

তারজন্য গ্ৰাহকদের একটি ফর্ম পূরণ করে নিচে লাগানো উপভোক্তার ছবিতে বিধায়কের সই করাতে হয়। কিন্তু খড়গপুর শহরের বিজেপির তারকা বিধায়ক হিরণকে পাওয়া না যাওয়ায় ব্যাপক হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে মানুষজনকে। বাধ্য হয়ে তাঁদের সমস্ত কাজ ফেলে দিয়ে এখন খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালের সুপার কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের কাছে ছুটে যেতে হচ্ছে শুধুমাত্র একটি সইয়ের জন্য।

- Advertisement -

আর হাসপাতাল সুপারকেও মানুষের স্বার্থে দুনিয়ার কাজ ফেলে এখন এই সই করার কাজ করে যেতে হচ্ছে। এইভাবে প্রতিদিন হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে প্রথমার্ধে এই কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। আর এই কাজ তিনি এক আধ দিন নয়। গত দেড় মাস ধরে তিনি এই সইয়ের কাজ করে চলেছেন। তবে শুধু সাধারন মানুষ নয়। দলীয় বিধায়ককে না পেয়ে বিজেপির কর্মীরা পর্যন্ত একগুচ্ছ ফর্ম নিয়ে সুপারের দ্বারস্থ হচ্ছেন একটি সইয়ের জন্য।

যদিও এই ব্যাপারে বিধায়ক কিংবা বিজেপির কোনও নেতার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি। তবে কটাক্ষ করতে ছাড়েন নি তৃণমূল নেতারা। এখন গোটা রাজ্যের সাথে খড়গপুর শহরেও দুয়ারে সরকার শিবির শুরু হয়েছে। এই শিবিরে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য বহু মানুষ ফর্ম জমা করছেন। তারমধ্যে লক্ষ্মী ভান্ডার প্রকল্প যেমন রয়েছে তেমন স্বাস্থ্য সাথী, খাদ্যসাথী সহ অন্যান্য বেশ কিছু প্রকল্প রয়েছে।

আর এইসব প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য ফর্ম জমা করার সময় আধার কার্ডের প্রত্যয়িত নকল দেওয়া একপ্রকার বাধ্যতামূলক। কারন প্রতিটি প্রকল্পের সুবিধা আধার কার্ডের সংযোগ না হলে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সেই কারনে গত কয়েক মাস ধরে খড়গপুর শহরে নতুন আধার কার্ড তৈরী থেকে শুরু করে সংশোধনের হিড়িক পড়েছে। আর এই সময়ে বিধায়ককে পাওয়া না যাওয়ায় ব্যাপক নাজেহাল হতে হচ্ছে মানুষজনকে।

এই ব্যাপারে বক্তব্য জানার জন্য বারবার ফোন করা হলেও ফোন ধরেন নি বিধায়ক হিরণ। এমনকি বিষয়টি নিয়ে ফোন করা হয় বিজেপির রাজ্য সম্পাদক তুষার মুখোপাধ্যায়কে। তিনি ব্যস্ত রয়েছেন বলে ফোন কেটে দেন। আর খড়গপুর মহকুমা হাসপাতাল সুপার কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন এরকম সই সারাদিনে ৪০ থেকে ৫০টি করতে হচ্ছে। জানা গিয়েছে বিধায়কের পরিবর্তে হাসপাতাল সুপার কিংবা মহকুমা শাসক বা পুরসভার কার্যনির্বাহী আধিকারিক সহ এই স্তরের আধিকারিকদের সই গ্ৰাহ্য হবে।

ফলে বিধায়ককে না পেয়ে বেশিরভাগ মানুষজন খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালের সুপার কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের কাছে ছুটে যাচ্ছেন। এদিকে এই ব্যাপারে খড়গপুর পুরসভার চেয়ারপারসন তথা প্রাক্তন বিধায়ক রীতিমতো কটাক্ষ করলেন বর্তমান বিধায়ককে না পাওয়ার জন্য। তিনি বলেন ” বিধায়ককে না পাওয়ায় আধার কার্ড তৈরির ফর্মে সই করাতে মানুষজনকে হয়রানি হতে হচ্ছে এটা ঘটনা। তিনি শহরের উন্নয়নের কাজ কি করবেন সেটি পরের ব্যাপার।

এখন তো অন্তত শহরে থেকে মানুষজনকে প্রয়োজনীয় সই সাবুদগুলি করে দিক।” প্রসঙ্গত মাস খানেক আগে গোটা শহর জুড়ে বিধায়ক নিরুদ্দেশ এই পোস্টারে ছয়লাপ হয়ে গিয়েছিল। তারপরেই কিছুদিনের জন্য তিনি হাজির হয়ে যান। এখন আবার তাঁকে প্রয়োজনে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই নিয়ে শহরের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!