Sunday, September 26, 2021
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরনেশা করার প্রতিবাদ করায় ভাইয়ের হাতে খুন দাদা,খড়গপুরে চাঞ্চল্য

নেশা করার প্রতিবাদ করায় ভাইয়ের হাতে খুন দাদা,খড়গপুরে চাঞ্চল্য

- Advertisement -

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: নেশা করার প্রতিবাদ করায় ভাইয়ের হাতে খুন হতে হল দাদাকে। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার বিকালে খড়গপুর পুরসভার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের রবীন্দ্রপল্লী এলাকায়। মৃত দাদার নাম জি নভজিৎ শেখর রাও। অভিযুক্ত ভাইয়ের নাম জি সুমিত রাও। জানা গিয়েছে অভিযুক্ত ভাই একজন মাদকাসক্ত যুবক।

রবিবার দুপুরে  বাড়ির ভেতরে বন্ধুদের নিয়ে নেশা করছিলেন। তখন বড় দাদা ও মেজদা প্রতিবাদ করেন। বাড়ি থেকে সবাইকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। তার কিছুক্ষণ পরেই সুমিত বাড়িতে ফিরে আসেন। বাড়িতে রাখা এক বন্ধুর মোটরবাইক নিয়ে বেরোয়। সেইসময় বাড়ির উঠোনে বসে মুরগীকে দানা খাওয়াচ্ছিলেন বড় দাদা নভজিৎ। তখন মোটরবাইকের ধাক্কায় তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়েন। মাথায় আঘাত লাগে।

- Advertisement -

রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে সন্ধ্যায় মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে রাতের দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ব্যাপারে মৃতের স্ত্রী বি মঞ্জু রাও বলেছেন ” সুমিত যেভাবে জোরে মোটরবাইক চালিয়ে নিয়ে এসে স্বামীকে ধাক্কা মেরেছে তাতে পুরো ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত বলে মনে হচ্ছে। এটি খুন করা ছাড়া আর কিছু নয়।” এদিকে  এলাকায় নভজিতের মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা।

তাঁরা সুমিতকে ধরে রীতিমতো গণপিটুনি শুরু হয়। এলাকার বাসিন্দারা তাঁকে জেরা করে জানতে চান কোথা থেকে বাইক পেয়েছিল। কোথা থেকে মাদক দ্রব্য আনা হত। সেসব জানার পর রাত একটা নাগাদ এলাকার কিছু যুবক রবীন্দ্রপল্লী ও আরামবাটি এলাকার মধ্যবর্তী কংসাবতী খালের লাগোয়া জঙ্গলে তল্লাশি চালায়। হদিস পাওয়া যায় মাদকচক্রের এক পান্ডা ও তিন সাকরেদকে। তিন সাকরেদ পালাতে সক্ষম হলেও যুবকদের হাতে ধরা পড়ে যায় সেক আনোয়ার নামে মূল পান্ডা।

সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় মোটরবাইকটি। তারপর সুমিত ও আনোয়ারকে তুলে দেওয়া হয় খড়গপুর গ্ৰামীণ থানার পুলিশের হাতে। এই ব্যাপারে পুলিশ জানিয়েছে ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। সোমবার রাত পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের হয় নি। তবে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম এই ব্যাক্তিকে হারিয়ে গোটা পরিবার কার্যত পথে বসেছে। নভজিৎ ওরফে ভক্ত ও তাঁর স্ত্রী দুজনে মিলে খড়গপুর আইআইটির টেক মার্কেটে ইডলি, ধোসার একটি ছোটো দোকান চালাতেন।

এই দম্পতির কলেজ পড়ুয়া একটি মেয়ে ও দ্বাদশ শ্রেণী পড়ুয়া এক ছেলে রয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত ভাই সুমিত সহ মেজ ভাই জি সুমন রাও দাদা ও বৌদির সাথে থাকেন। ছোটো ভাইয়ের কীর্তিতে রীতিমতো ক্ষুব্ধ মেজ দাদা জি সুমন রাও বলেছেন ও যেন চরম শাস্তি পায়। এরকম ভাই সংসারে থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো।” সবমিলিয়ে মাদকাসক্ত ভাইয়ের নিষ্ঠুরতায় গোটা পরিবার অথৈ জলে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!