Sunday, September 26, 2021
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরটানা ৩ দিন ধরে নদীর জলে ভাসছিল 'দেহ', কাছে যেতেই তাজ্জব গ্রামবাসীরা,...

টানা ৩ দিন ধরে নদীর জলে ভাসছিল ‘দেহ’, কাছে যেতেই তাজ্জব গ্রামবাসীরা, জীবিত অবস্থায় উদ্ধার ব্যক্তি

- Advertisement -

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: তিনদিন  ধরে নদীর জলে ভাসছেন এক ব্যক্তি! কখনও ভাসছেন। কখনও গলা পর্যন্ত ডুবিয়ে রেখেছেন। শুধু মাথাটুকু দেখা যাচ্ছে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে একটি মৃতদেহ ভাসছে! ঘটনায় চাঞ্চল্য। তিন দিন ধরে বিভিন্ন জনের নজরে আসার পর, বৃহস্পতিবার নৌকা নিয়ে স্থানীয়রা উদ্ধার করতে গেলে, দেখতে পান মৃতদেহ নয়, লোকটি জীবিত। মিট মিট করে তাকাচ্ছেন। এক মুখ দাঁড়ি।

এক ঝলকে দেখলে মনে হবে মানসিক ভারসাম্যহীন। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর থানার গুডলি গ্রামে।লোকটির নাম পরিচয় জানা যায়নি।

- Advertisement -

বৃহস্পতিবার নদীর জল থেকে বছর পঞ্চান্নর ওই লোকটিকে তুলে পুলিশে খবর দিলে, পুলিশ এসে তাঁকে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার জন্য হাসাপাতালে ভর্তি করে। লোকটির নাম পরিচয় জানা যায়নি। ঘাটাল মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অগ্নীশ্বর চৌধুরী বলেন, ‘স্থানীয়দের সহযোগীতায় একজন ব্যক্তিকে কংসাবতী নদীর জল থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে মনে করা হচ্ছে। ওই ব্যক্তির নাম ঠিকানা জানা যায়নি। বিভিন্ন মাধ্যম অবলম্বন করে পরিচয় জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

জানা গিয়েছে, কংসাবতী নদীর জলে একজনকে ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। দাসপুর থানার গুড়লি গ্রামের ঘোলপাড়া এলাকায়। স্থানীয়দের দাবি, তিন দিন ধরে নদীর জলে ঝোপের মধ্যে এক ব্যক্তিকে  ভাসতে দেখা যায়। কেউ বলেন কখনও গোটা দেহ ভাসছে। আবার কেউ বলেনে, শুধু মাথাটুকু ভাসতে দেখাগেছে। মৃতদেহ ভাসছে বলে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।

স্থানীয় বাসিন্দা কার্তিক দোলই বলেন, নদীতে জল বেশি থাকায় কোনও ভাবেই ওর কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছিল না। বৃহস্পতিবাত নৌকা করে কাছে পৌঁছালে দেখা  যায় লোকটি জীবিত। তিনি চোখ মেলে চাইছেন। তারপর তাঁকে উদ্ধার করে ডাঙায় আনা হয়।’ হরিরামপুরের উত্তম ঘোড়ই বলেন, যাতায়াতের পথে তিনদিন ধরে লোকটিকে দেখছি। প্রথমে মৃতদেহ মনে হলেও, পরে মনে হয়েছে জীবিত।

দূর থেকে চিৎকার করে কেন তিনি জলে? কী নাম? কোথায় বাড়ি?  জিজ্ঞাসা করা হলেও কোনও উত্তর মেলেনি। বৃহস্পতিবার নৌকা করে গিয়ে তুলে আনা হয়। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। ঘাটাল মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অগ্নিশ্বর চৌধুরীর এবং দাসপুর থানার ওসি অমিত মুখোপাধ্যায়কেয়ের তৎপরতায় ওই ব্যক্তিকে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে।

কিন্তু কীভাবে একজন ব্যক্তি নদীর জলের মধ্যে একই জায়গায় তিন দিন ভেসে বা দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন! সাঁতারে বিশেষজ্ঞ লোকজনও বলছেন, ‘এটা অবাক ব্যাপার। জলের মধ্যে তিনদিন একই জায়গায় থাকা অসম্ভব।’ মেদিনীপুর সুইমিং ক্লাবের সাঁতার প্রশিক্ষক সুশান্ত পাল বলেন, ‘নদীর জলে কীভাবে একই জায়গায় তিন দিন থাকা যায় জানি না! আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় এমন ঘটনা জানা নেই। সাঁতার জানলেও এদিক ওদিক হতে হবে। জলের মধ্যে একই জায়গায় তিন দিন দাঁড়িয়ে থাকাও কঠিন।

কয়েক ঘণ্টা থাকা যেতে পারে।’ কেউ কেউ মনে করছেন, নদীর পলি মাটিতে আটকে গিয়ে ছিল। আবার কেউ বলছেন, অভ্যাসের ফলে সাধু-সন্তরা এভাবে অনেকক্ষণ থাকতে পারেন। কিন্তু ওই ব্যক্তির কী এমন অভ্যেস ছিল? প্রশ্ন অনেকের, কীভাবে থাকলেন!

 

 

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!