Saturday, October 16, 2021
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরপরিবেশ সচেতনতার বার্তায়, নিজের টোটোতেই প্রকৃতি বান্ধব পরিবেশ তৈরি করল খড়গপুরের উত্তম

পরিবেশ সচেতনতার বার্তায়, নিজের টোটোতেই প্রকৃতি বান্ধব পরিবেশ তৈরি করল খড়গপুরের উত্তম

- Advertisement -

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: যাত্রীদের মনোরঞ্জনের ব্যাপার তো রয়েছেই। তারসাথে সবুজ বাঁচাও এই বার্তা দেওয়ার তাগিদটিও রয়েছে। আর এই তাগিদ থেকেই নিজের টোটোর মধ্যে প্রকৃতি বান্ধব একটি পরিবেশ তৈরি করেছেন। আস্ত একটি প্রকৃতি তুলে এনেছেন নিজের টোটোতে।

আর এইধরনের একটি টোটোতে সবুজের সমারোহ ঘটিয়ে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন খড়গপুর শহরের ইন্দা কমলাকেবিন এলাকার বাসিন্দা উত্তম সরকার। কি নেই তাঁর এই টোটোতে! নিজের বসার জায়গা থেকে শুরু করে যাত্রীদের বসার আসন পুরোটাই সবুজ রঙের প্লাস্টিকের ঘাস দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন। এমনকি টোটোর একপাশে সবুজ রঙের প্লাস্টিকের পাতা দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন। তারসাথে তিনটি স্টিলের পাইপ লাগিয়ে সেখানে জানলার মত করে পর্দা লাগিয়েছেন।

- Advertisement -

টোটোর সামনে ও পেছনে ভেতরের দিকে দুটি টাটকা মানি প্ল্যান্টের গাছ লাগিয়েছেন। সামনের দিকে উপরে একটি খাঁচা রয়েছে। সেখানে চারটি রঙ-বেরঙের পাখি রয়েছে। সেই পাখিগুলির কলতানে সারাক্ষণ টোটোর ভেতরটি ভরে থাকে। এই খাঁচার পাশে রয়েছে পরপর সারি দিয়ে তিনটি ড্রয়ার। তাতে স্যানিটাইজার থেকে শুরু করে ভিজিটিং কার্ড সহ উত্তমের নিজস্ব ডায়েরি ও কলম রাখা রয়েছে।

 

 

তিনি জানালেন স্যানিটাইজার রাখা হয়েছে যাত্রীদের দেওয়ার জন্য। এছাড়া টোটোর ছাদে রয়েছে একটি সোলার প্যানেল। তিনি জানালেন এই সোলার প্যানেল থেকে অতিরিক্ত সৌরশক্তি তৈরি হয়। সেই সৌরশক্তির সাহায্যে ব্যাটারি ছাড়াই টোটোটি অতিরিক্ত আরও কিছুটা রাস্তা যেতে পারে। ফলে কোনো কারনে ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে গেলেও সমস্যায় পড়তে হয় না। বস্তুত এরকম সোলার প্যানেল লাগানো টোটো রাজ্যে সম্ভবত এই একটিই রয়েছে।

এছাড়া টোটোরী ভেতরে একটি চলমান ঘড়ি রয়েছে। রয়েছে সাউন্ড সিস্টেম। রয়েছে একটি শ্রীকৃষ্ণের ছবি। আর রয়েছে একটি ছোটো টবে লাগানো পাতাবাহার গাছ। তারসাথে রাতে যাতে যাত্রীদের কোনও অসুবিধা না হয় তারজন্য রয়েছে আলো। সবমিলিয়ে সাজানো গোছানো একটি টোটো। তবে এই টোটো কোনও রুটে চলে না। রিজার্ভে চলে খড়গপুর ও মেদিনীপুর শহরে। বছর চল্লিশের এই যুবক জানালেন দু বছর আগে এই টোটো কিনলেও বছর খানেক হয়েছে এইভাবে সাজিয়ে তুলেছেন।

পুরো টোটোকে এইভাবে পরিবেশ বান্ধব করে তুলতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫৩ হাজার টাকা। এই টোটো চালিয়ে রোজগার থেকে খরচ করে এইভাবে সাজিয়ে তুলেছেন। তিনি বলেছেন ” গত দেড় বছর ধরে করোনার তান্ডব চলছে। বহু মানুষের প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু হয়েছে গোটা দেশে।

মানুষ নির্বিচারে গাছপালা, বন ও জঙ্গল কেটে ফেলায় এখন সবুজের আকাল। প্রকৃতিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাব। এই সবুজকে বাঁচানো ও গাছপালা নির্বিচারে কেটে না ফেলার বার্তা দেওয়ার জন্য এই ছোট্ট প্রচেষ্টা।” জানা নেই এই টোটো মালিক কাম চালকের এই বার্তা মানুষ সচেতনভাবে নেবেন কিনা। তবে তাঁর এই চেষ্টাকে শহরের মানুষ কুর্নিশ করছেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!