Saturday, October 16, 2021
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরনদী বাঁধই এখন ভরসা,সবংয়ের বন্যা দুর্গত মানুষজনের

নদী বাঁধই এখন ভরসা,সবংয়ের বন্যা দুর্গত মানুষজনের

- Advertisement -

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: নদী বাঁধই এখন ঘর, বানভাসী সবংয়ের দুর্গত মানুষজনের। ঘর-বাড়ি ছেড়ে উঁচু বাঁধের উপর ত্রিপলের তাবুতে আশ্রয় নিতে হয়েছে হাজার হাজার মানুষকে। কদিনের টানা বৃষ্টিতে ভাসছে পশ্চিম মেদিনীপুরের বেশকিছু এলাকা।

যার মধ্যে সবং, পিংলার অবস্থা ভয়াবহ। সবং ব্লকের ১৩টি অঞ্চলের প্রায় দু-লক্ষ মানুষ জলবন্দি। পিংলার ব্লকের পাঁচটি অঞ্চল জলমগ্ন। পিংলাতেও জলবন্দি হয়েছেন প্রায় এক লক্ষ মানুষ। অবিরাম বৃষ্টির ভলে ফের আতঙ্কিত বাঁধে আশ্রয় নেওয়া মানুষজন।

- Advertisement -

বিগত কয়েক বছরে সবংয়ের মানুষ বন্যা ভুলে গিয়েছিলেন, কিন্তু বন্যা ভুলেনি সবং কে। স্থানীয় লোকজনের কথায়, ২০০৮ সালে শেষ বড় বন্যা হয়েছিল। তারপর কেলেঘাই, কপালেশ্বরী, বাগুই, চন্ডিয়া নদী সংস্কারের ফলে আর সেভাবে বন্যা হয়নি সবংয়ে।

১২ বছর পর নদীবাঁধ ভেঙে ফের জলমগ্ন সবং, পিংলার বিস্তৃর্ণ এলাকা। ৪ন্মবর দশগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের কোপ্তীপুর এলাকায় প্রতিটি বাড়ি জলের তলায়। কারোর বাড়ির সামনে চার ফুট, কারোর বাড়ির সামনে পাঁচ ফুট, সাত ফুট জল জমে রয়েছে এখনও।

কোপ্তীপুরের ভাগবৎ করণ, মামনি করণ’রা ঘর বাঁধেছেন নদীবাঁধের উপর। প্রশাসনের তরফে দেওয়া ত্রিপল টাঙ্গিয়ে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন তাবুতে। একই অবস্থা সুকুমার তুঙ্গ, মিতা তুঙ্গ’দের।

ত্রাণে পাওয়া ত্রিপল আর বাঁশ দিয়ে রাস্তার উপর তাবু তৈরি করছেন মাথা গোঁজার জন্য। মিতা বলেন, ‘৯ মাসের বাচ্চাকে নিয়ে কোনও রকমে উঠে এসেছি। খেতে না পায়, বেঁচেতো আছি!’

বাঁধের উপর সারি সারি ত্রিপলের তাবু। একই ত্রিপলের তলাই গরু-বাছুর, ছাগলের সঙ্গে আশ্রয় নিতে হয়েছে মানুষকে! এভাবেই দিন কাটছে অনাদি আদক, অঞ্জলি আদক, মামনি দাস। অর্চনা মান্নাদের। গ্রামের প্রায় ৩০০ পরিবার, অধিকাংশই আশ্রয় নিয়েছেন বাঁধের উপর। মামনি দাস, অর্চনা মান্না’রা বলেন, ত্রিপল, শুকনো খাবার, একদিন খিচুড়ি পেয়েছি।

কিন্তু এভাবে অবিরাম বৃষ্টির মধ্যে ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে ত্রিপলের তলায় কতদিন থাকবো? সন্ধ্যে হলে অন্ধকার, সাপের ভয়, প্রাণ হাতে করে নিয়ে রাত কাটাতে হচ্ছে অস্থায়ী ঝুপড়িতে। সবচেয়ে বড় সমস্যা কোথাও শৌচাগার নেই। এতগুলো মানুষ বিশেষ করে মহিলারা যাবেন কোথায়?’

সবংয়ের কোপ্তীপুর, খাওখান্ডা, মশাগ্রাম, সারতা, চাউল খাওলা সহ বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন। নদীবাঁধে দাঁড়িয়ে আদিত্য মান্না, হীরেন্দ্র নাথ ভক্ত’রা বলেন, ‘নদী সংস্কারের পর থেকে আমরা বন্যার কথা ভুলেই গেছলাম। এখন দেখছি আমরে বন্যা ভুললেও, বন্যা ভুলেনি সবংকে।

ভেবেছিলাম নদী সংস্কার হয়েছে, নদীবাঁধ এত উঁচু হয়েছে বাঁধের উপর পাকা রাস্তা হয়েছে আর হয়তো বন্যা হবেনা! আবার যে এত বড় বন্যা হবে তা স্বপ্নেও ভাবিনি। মানুষের কী দুর্ভোগ, কেউ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতে পারবেন না।’

বুধবার মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া সঙ্গে প্রাক্তন বিধায়ক গীতা ভূঁইয়া বিডিও সবং তুহিন শুভ্র মহান্তি সবংয়ের ভেমুয়া মোহাড় অঞ্চলের বন্যা কবলিত এলাকা ঘুরে দেখলেন। প্রতিদিনই ঘুরছেন, কিন্তু তারপরও ক্ষোভ বাড়ছে দুর্গত এলাকায়। মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া বলেন, ‘সবং এবং পিংলায় যা পরিস্থিতি তাতে সবং ব্লকের জন্য আরও ২০ হাজাত ত্রিপল এবং পিংলার জন্য ১০ হাজার ত্রিপল প্রয়োজন। জেলাশাসক রশ্মি কমলের কাছে আবেদন করেছি, যেন দ্রুত ত্রিপল ও ত্রাণ সামগ্রীর পাঠানো হয়।’

অন্যদিকে শুক্রবার বিকেলে রাজ্যের জল সম্পদ মন্ত্রী তথা সবং বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক মানস ভুঁইয়া দশগ্রাম অঞ্চলের বন্যা কবলিত কোপ্তীপুর এলাকায় পরিদর্শনে আসেন। সেখানে বন্যা দুর্গত স্থানীয় মানুষজনদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী বলেন, এই বন্যার অন্যতম কারণ হচ্ছে নদীর চরে বেআইনি ইটভাটা, বেআইনি মাছের ঝিল। এগুলো জলের প্রবাহকে নিচে নামতে বাধা দিচ্ছে। এগুলো আমাদের আগামী দিনে দেখতে হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!