Saturday, October 16, 2021
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরশহর থেকে কবে আসবে পুজোর ঢাকের বায়না,অপেক্ষায় চন্দ্রকোনার ঢাকি পরিবারগুলি

শহর থেকে কবে আসবে পুজোর ঢাকের বায়না,অপেক্ষায় চন্দ্রকোনার ঢাকি পরিবারগুলি

- Advertisement -

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনার সানকিয়া দাসপাড়া। এখানেই বসবাস ৫৫-৬০ টি পরিবারের,এদের সকলেরই ঢাক বাজিয়ে রুজিরোজগার,তা থেকেই চলে সংসার খরচ।গত দেড় দু’বছর করোনার জেরে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিধি নিষেধ জারি রয়েছে,কমে গিয়েছে বিভিন্ন পুজোর বহর।

আর এতেই সংকটে চন্দ্রকোনার সানকিয়া দাসপাড়ার এই ঢাকি পরিবারগুলি।শুধু সানকিয়া গ্রামই নই,রয়েছে চন্দ্রকোনার কোচগেড়্যা সহ আরও কয়েকটি গ্রামে ঢাকিদের বসবাস।বছরের এই একটা সময় বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গা পুজোর দিকে তাকিয়ে থাকে ঢাকিরা। কেননা পুজোর সময় তারা পাড়ি দেয় কলকাতা শহরে।

- Advertisement -

কলকাতার বিভিন্ন পুজো উদ্যোক্তাদের সাথে যোগাযোগ রয়েছে চন্দ্রকোনার সানকিয়া গ্রামের ঢাকিদের।এই গ্রামে বর্তমানে ৫৫ জনের উপর ঢাকি রয়েছে,সংখ্যাটা করোনার আগে আরও বেশি ছিল কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা অনেকটাই কমে এসেছে।অনেকেই অন্য পেশা বা ভিন রাজ্য কাজের সন্ধানে চলে গিয়েছে। প্রতিবছর পুজোর সময় কলকাতা থেকে ডাক পেয়ে গ্রামের সকল ঢাকি ব্যাগপত্র বেঁধে বাসে করে পাড়ি দেয় কলকাতায়।

সকলে একসাথে জোট বেঁধে বাড়ি ছাড়ে এবং পৌঁছে যায় কলকাতায়,সেখান থেকে চার পাঁচ জনে ভাগ হয়ে কলকাতার বিভিন্ন পুজো মন্ডপে পৌঁছে যায়। দুর্গা পুজোয় বাজিয়ে বাড়ি ফেরা ৮-১০ দিন পর। খরচ খরচা বাঁচিয়েও ৫ থেকে ১০ হাজার টাকাও এক একজন সাথে নিয়ে বাড়ি ফেরে,এরসাথে নতুন পোশাক ও চাল সহ উপকরণও থাকে।আর এসবের আগে কলকাতা থেকে ফোনের মাধ্যমে এদের বুক করে নেওয়া হয় এবং ডাক পড়তো পুজোর কিছুদিন আগে কলকাতা রওনা দেওয়ার।

কিন্তু গতবছর করোনা পরিস্থিতির জেরে পুজোয় ডাক পাইনি সানকিয়া গ্রামের ঢাকিরা,এবছর ডাক আসবে নাকি আগের বছরের মতোই অবস্থা হবে তা নিয়ে ঘোর দুশ্চিন্তায় সানকিয়া গ্রামের ঢাকি অনিল,অরুণ,তপন,কচি রুইদাসের মতো আরও অনেকেই। তার উপর এদের কারও কারও ভ্যাকসিন মিলেছে আবার অনেকের এখন ভ্যাকসিনই মিলেনি বলে দাবি। এদের কথায়,আগের বছর ডাক পাইনি,এবছর তো যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তার প্রস্তুতিও চলছে,এখনও তো ডাক আসেনি,কি হবে কে যানে।আমাদের বাজনা বাজানো ছাড়া কোনও উপায় নাই,কষ্টে কাটছে সবার।

মাকে তো ডাকছি যেমন এবার ভালো মতো যেতে পারি,মায়ের আশায় আছি।সবাই ভালো থাকুক আমরাও যেনো ভালো থাকি এই আশায় রয়েছি।”এদের কথায়,নিজেদের এলাকায় সেভাবে বড় পুজো হয়না,বাজেটও কম,তাই এখানে বাজিয়ে পুজোয় তেমন পয়সা মিলেনা কিন্তু কলকাতা গেলে এবং পুজোয় বাজিয়ে ফিরলে বছরের একটা সময় মোটা উপার্জন হয়। তাই প্রতিবছর দুর্গা পুজোয় পরিবার ছেড়ে কলকাতা পাড়ি দেওয়া চন্দ্রকোনার ঢাকিদের।ঢাকিদের পাশাপাশি আশায় রয়েছে তাদের পরিবারও।পরিবারের কথায়,সারাবছর তো টুকিটাকি বাজিয়ে যা জুটে,বছরের এই একটা সময় মোটা উপার্জনে ধারদেনা শোধ হয়ে যায়,পরিবারের মুখে হাসি ফুটে।”এমন সময় তো কলকাতা থেকে ফোনের মাধ্যমে বুক করে নেওয়া হয় পুজোয় বাজানোর জন্য,সেই ফোন বা ডাক এখনও আসেনি এমনটাই জানাচ্ছেন ঢাকিরা।

এবছর তারা আশাবাদি হয়তো আরও কিছুদিন কাটলে ডাক আসবে,সেই আশায় বুক বেঁধে রয়েছে চন্দ্রকোনার ঢাকিরা।প্রস্তুতিতে যাতে খামতি না থাকে সেজন্য ঢাক ঝাড়ামোছা,সব ঠিকঠাক আছে কিনা খুঁটিনাটি দেখে নেওয়া থেকে তালিমও চলছে জোরকদমে।পুজোর এখনও কিছুটা দিন তো বাকি ডাক ঠিক আসবেই এবছর,মায়ের উপরই সবটাই ছেড়ে দিয়ে অপেক্ষায় চন্দ্রকোনার ঢাকিরা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!