Saturday, October 16, 2021
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরবংশ পরম্পরায় চলে আসা মালাকারদের ঐতিহ্য বজায় রাখার দায়িত্ব তুলে নিলেন পরিবারের...

বংশ পরম্পরায় চলে আসা মালাকারদের ঐতিহ্য বজায় রাখার দায়িত্ব তুলে নিলেন পরিবারের মহিলারা

- Advertisement -

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা ১ ব্লকের মনোহরপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের কুলদহ ও ডিঙ্গাল গ্রাম মিলিয়ে ১৫-২০ টি মালাকার পরিবারের বসবাস। এই দুই গ্রামে মালাকার পাড়া এখনও একডাকে পরিচিত।

আগে অধিকাংশ মালাকার পরিবার পুজোর সাজসরঞ্জাম ও গহনা তৈরি করেই জীবিকা নির্বাহ করতো,বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮-১০ টি পরিবার।বাপঠাকুরদার আমল থেকে চলে আসা সোলার সাজসরঞ্জাম তৈরির কাজ বর্তমানে চালিয়ে যাচ্ছেন পরিবারের মহিলা সদস্যারা,সমস্ত উপকরন জোগাড় করে একাজে তাদের সাহায্য করেন বাড়ির পুরুষেরা।

- Advertisement -

পুজোর হাতে আর কয়েকটা দিন,তাই সংসারের অন্যান্য কাজের পাশাপাশি দিনরাত এক করে পুজোর সাজসরঞ্জাম ও গহনা তৈরির কাজ জোরকদম চালিয়ে যাচ্ছেন চন্দ্রকোনার কুলদহ,ডিঙ্গাল গ্রামের মালাকার পাড়ার মহিলা সদস্যারা। কখনও এজেলার দাসপুর আবার কখনও হাওড়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সোলা কিনে এনে দেয় পরিবারের কর্তারা। শুধু সোলা দিয়েই নই,রয়েছে আরও একাধিক উপকরণ যেমন,কিরন,ঘগরী,ভেলবেট,চুমকী,জামিরা,প্লাস্টিকের ফুল এবং সাথে রং।

সোলা কেটে বিভিন্ন ডিজাইন করে এসব উপকরণ দিয়ে তৈরি হয় পুজোর সাজসরঞ্জাম ও গহনা। সোলার নানানা ডিজাইনের চাঁদমালা,মুকুট,সাধারন মালা থেকে প্রতিমার সাজ তৈরির হাত নিপুণ হীরা,রীনা,ঝর্ণা,অর্চনা মালাকারদের,পুরুষেরাও একাজে হাত লাগান অবশ্য।তবে এখন পুজোর সাজসরঞ্জাম ও গহনা তৈরির অধিকাংশ কাজটাই করেন বাড়ির গৃহবধূ থেকে বয়স্ক মহিলারাই।

মহিলাদের তৈরি এইসমস্ত হাতের কাজ বাড়ির পুরুষেরা শহরের বিভিন্ন দোকানে বিক্রির জন্য দিয়ে আসেন বা বাড়িতেও আসেন অনেকেই তা কিনতে বা অর্ডার দিতে। এইসমস্ত মালকার পরিবারের কথায়,বংশপরম্পরায় এই হাতের কাজ এখন বন্ধের মুখে,কারন পরিশ্রম রয়েছে একাজে আর এখন যেহারে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে চলেছে তাতে কাজ করে লাভ খুব একটা হয়না।

তাই একাজ থেকে অনেকেই মুখ ফুরিয়ে নিয়ে ভিন্ন পেশা বা চাষবাসে জোর দিয়েছে।আর যাদের জমি বা চাষ নেই তারা এখনও বহু পুরানো এই হস্তশিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছে এবং তাতে বড়ো ভূমিকা পালন করছে বাড়ির মহিলারা। মালাকারদের কথায়,আগে কাঁচামাল,উপকরণের দাম ও জোগান ভালো ছিল কিন্তু বর্তমানে সোলার দাম আগুন।

আগে সোলা বান্ডিলে ১৫০ টাকা ছিল এখন তা ৩৫০ টাকা হয়েগিয়েছে,তাও সব জায়গায় মিলেনা। এর সাথে আনুষঙ্গিক উপকরণের দামও দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় তাদের কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। চড়া দামে উপকরণ সামগ্রী কিনে তা তৈরি করে চড়া দামে বিক্রি করলে ক্রেতারা নিতে চাইনা। কেবল বিভিন্ন ডিজাইনের চাঁদমালা ৫ টাকা থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে কিন্তু বাজারে তা সর্বোচ্চ ৮০-৯০ টাকা দরে ছাড়া বিক্রি হয়না।

ফলে লাভের জায়গা কমে গিয়েছে। এর কারণ হিসাবে করোনা পরিস্থিতি ও দিন দিন দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধি এমনটাই মনে করছেন মালাকার পরিবারগুলি। সরকারি কোনও স্বীকৃতি বা আর্থিক সাহায্য ছুটলে আরও চাঙ্গা হত এই হাতের কাজ দাবি অনেকেরই। তবে বংশপরম্পরায় চলা একাজে লাভ যাই হোক পুজোর মুখে তা পুনরুজ্জীবিত করতে হাল ধরেছে মহিলারাই,জোরকদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে মালাকার পরিবারের সদস্যারা।

আগের বছরের তুলনায় এবছর চাহিদা বেড়েছে এবং ইতিমধ্যে বেশকিছু অর্ডারও মিলেছে,হাতে সময় কম তাই দিনরাত এক করে পুজোর সাজসরঞ্জাম ও গহনা তৈরিতে ব্যস্ততা চন্দ্রকোনার এই মালাকার পরিবারগুলিতে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!