Saturday, October 16, 2021
Homeজেলাপশ্চিম মেদিনীপুরগত দুই দিনের প্রবল বর্ষণে দুই মেদিনীপুরের একাধিক এলাকা জলের তলায়,দুর্যোগে সাধারণ...

গত দুই দিনের প্রবল বর্ষণে দুই মেদিনীপুরের একাধিক এলাকা জলের তলায়,দুর্যোগে সাধারণ মানুষ

- Advertisement -

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: চলতি দুর্যোগে আরও সমস্যায় পড়ে গেলেন দুই মেদিনীপুর জেলার মানুষজন। বঙ্গোপসাগরীয় নিম্নচাপের প্রকোপ কলকাতা ও পার্শ্বস্থ জেলার ওপর কমলেও পশ্চিমের জেলায় দুর্ভোগ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলার আশঙ্কা। আরো ভয়ানক পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে মেদিনীপুরের বন্যা পরিস্থিতি।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ৪৭টি স্থানে ভেঙে পড়া নদী বাঁধগুলি মেরামত হয়নি। সেই স্থান দিয়ে আরো নদীর জল ঢোকায় সবং, পিংলা, ডেবরাসহ দাসপুর, ঘাটাল ব্লকগুলিতে বন্যার আরো অবনতি দেখা দিয়েছে।

- Advertisement -

বুধবার দুপুরে চন্দ্রকোনা-১ ব্লকের করোনঞ্জি গ্রামে মাটির দেওয়াল ধসে চাপা পড়ে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। নিহত ওই মহিলার নাম প্রতিমা বাগ (৩৭)। প্লাবিত এলাকায় আবারো জলের স্তর  বাড়ায় মানুষ এখন বিপদ ও সঙ্কটের মধ্যে।

মাথা গোঁজার জায়গার অভাব, পর্যাপ্ত ত্রাণ ও পানীয় জল না পাওয়ার অভিযোগ। রাজ্য সড়ক, জাতীয় সড়কের উপর জলের স্রোত। খড়্গপুর শহর, রেল স্টেশন আবারও জলের তলায়। মেদিনীপুর শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা জলবন্দি।

দুই শহর জুড়ে ঘরের মধ্যে দিয়ে নোংরা আবর্জনা পয়ঃপ্রণালীর জল বর্ষার জল একাকার হয়ে গেছে। একরাতের  বৃষ্টিতেই  কার্যত জলের তলায় জেলার তিন মহকুমা শহর খড়্গপুর, মেদিনীপুর ও ঘাটাল শহর। ঘাটাল শহরে বুধবার চলেছে নৌকা। সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় জেলার সবং, পিংলা ব্লকের সম্পূর্ণ অংশ, নারায়ণগড় ও ডেবরা ব্লকের অর্ধেক অংশ সম্পূর্ণ জলের তলায়।

ডেবরা থেকে সবং ও পিংলা রাজ্য সড়ককের উপর দিয়ে বইছে কেলেঘাই, কপালেশ্বরী নদীর জলের স্রোত। এমনিতেই সবংয়ের ১৩টি ও পিংলার ৭টি, ডেবরার ৬টি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার ৩৫০ মৌজা জলের তলায় ছিলে।

আবার এই ঘূর্ণাবর্তের কারণে জেলার নদীগুলিতে জলের স্তর বাড়তে থাকে। নদীগুলির ৪৭ টি ভেঙে পড়া বাঁধের জায়গা দিয়ে নদীর জল ঢুকতে শুরু করায় প্লাবিত এলাকায় জলের স্তর বাড়ছে।

সোমবার রাত ১০টা নাগাদ শুরু হয়েছিল বৃষ্টি যা শেষ হয়েছে ভোর সাড়ে চারটা নাগাদ। মাঝে বৃষ্টি কমেছে, বেড়েছে কিন্তু একেবারে থেমে যায়নি। হিসাব অনুযায়ী টানা সাড়ে ৬ঘন্টায় বৃষ্টি হয়েছে ১১৭ মিলিমিটার। গত প্রায় ৩মাস ধরে বৃষ্টির জলে নাকানি চোবানি খাচ্ছে খড়গপুর, মেদিনীপুর শহর সহ ঘাটাল শহর। এছাড়া ঘাটাল ব্লক ও দাসপুরের চারটি অঞ্চল। মেদিনীপুর ও খড়্গপুর দুই শহরের দেড় শতাধিক ছোটো বড় পুকুর, নয়নজুলি জলাশয় খেয়েছে শাসক দলের নেতা সহ প্রোমোটার।

ভরাট করে হয়েছে বড় বড় নির্মাণ। ফলে এখন নোংরা জলে ভাসছে দুই ঐতিহাসিক শহর। অবৈধ ও অপরিকল্পিত নির্মাণে শহরের জল বের হওয়ার কোনেও পথ নেই। খড়গপুর রেলস্টেশন আবারও এদিন জলে থই থই। স্টেশনের ভেতরে থাকা অধিকাংশ লাইন জলের তলায়। বোগদার দিক থেকে স্টেশনে ঢোকার পুরো চত্বর আগের মতই জলে ডুবে রয়েছে।

চলতি দুর্যোগে আরও সমস্যায় পড়ে গেলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মানুষজন। কেলেঘাই, চণ্ডীয়া নদী বাঁধ ভাঙনে জলের প্রবল তোড়ে পাঁশকুড়া, কোলাঘাট, ময়না, পটাশপুর  ১ -২, ভগবানপুর ১-২, চণ্ডীপুর, খেজুরি, এগরার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল, বারচৌকা জলার ভাঙন ভগবানপুর দুই ব্লক এগরার দুবদা এলাকা  গত দু’দিনের বৃষ্টির প্রবল বৃষ্টিতে  আবার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অপরদিকে, সুবর্ণরেখা নদীর উপচে পড়া জল ও উপর্যুপরি নিম্নচাপের ফলশ্রুতিতে অতিবৃষ্টির জমা জলের কাঁথি ও এগরা মহকুমা –সহ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা ফের জলমগ্ন হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এক মাসের ওপর এলাকার সাধারণ মানুষ  জলযন্ত্রণার মধ্যে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। পটাশপুর-১ ও ২, ভগবানপুর-১ ও ২, চণ্ডীপুর, নন্দীগ্রাম, ময়না, পাঁশকুড়া, কোলাঘাট ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা সহ এগরা-১ ও এগরা-২, কাঁথি-২,৩ ও রামনগর-১ ব্লকের কিছু এলাকা নদীর জল,অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত।

কয়েকদিন আগে গুলাব ও নিম্নচাপের অতিবৃষ্টিতে ঐসব বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের আতঙ্কিত। সেই সাথে দেশপ্রাণ, কাঁথি-১, কাঁথি-৩, খেজুরি-১ ও ২, রামনগর-১ ও ২, এগরা-১ ও ২ ব্লক সহ কাঁথি ও এগরা পৌরসভার নিচু এলাকা নিম্নচাপজনিত অতিবৃষ্টির জলে নতুন করে ডুবতে বসেছে। সমস্ত  ব্লকেই রাস্তাঘাট, চাষবাস, ফুল-ফল, ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাছের চাষ, পুকুর-ভেড়ি সবই জলমগ্ন। করোনা বিধি মানা যাচ্ছে না এলাকায়। ত্রাণ শিবিরে ঠাঁই নাই রব। কাঁথি ও এগরা মহকুমা হাসপাতাল সহ অধিকাংশ প্রাথমিক ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র সমূহে জল দাঁড়িয়ে। চিকিৎসা পরিষেবা বিঘ্নিত।

কাঁথি পূর্বাঞ্চলে মহকুমা হাসপাতাল যাওয়ার রাস্তা অবরুদ্ধ হাঁটুসমান জল  গোটা গান্ধী রোড  কাঁথির পশ্চিমাঞ্চল  ১৯,২০,২১  নম্বর ওয়ার্ড জলপ্লাবিত। গ্রামাঞ্চলে জলদূষণ চরম আকার নিয়েছে। পানীয়জলের সঙ্কট চরমে। শুকনো ও রান্না করা খাবারের জন্য মানুষেরা হাপিত্যেশ করছেন। সব রেশন দোকান থেকে খাদ্য সাথী প্রকল্পের চাল-গম নেওয়ার মতো পরিবেশ নেই। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। কাঁথি ও এগরা মহকুমা তথা পূর্ব মেদিনীপুর জেলাকে বন্যাকবলিত এলাকা ঘোষণা করার দাবি উঠেছে। পর্যাপ্ত ত্রিপল, পানীয়জল, শুকনো ও রান্না করা খাবার, প্রাথমিক চিকিৎসা পরিষেবার দরকার।

বিকেল ৩টার পর থেকে আকাশও পরিষ্কার হতে শুরু করে ফের সন্ধ্যায় মেঘ ভারী হয়ে  দীঘা সংলগ্ন এলাকায় বৃষ্টি ঝরছে। ইয়াসের মতো জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা তাড়া করে বেড়াচ্ছে নদী তীরবর্তী হলদিয়া শহরকে। নিম্নচাপের কেন্দ্রবিন্দুও বটে হলদিয়া। মঙ্গলবার থেকে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়েছে শিল্পশহরে। হলদিয়ার চিরঞ্জীবপুর, রানিচক আপণিকা বাজার, ১৫নম্বর ওয়ার্ডে পুরসভার দফতরের আশপাশের এলাকা, ডিঘাসিপুর-সহ হলদিয়া বন্দরের ভিতরেও জল জমেছে।  তা ছাড়া নদীতে জোয়ারে শিল্প শহর জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।

বুধবার দুপুরে চন্দ্রকোনা-১ ব্লকের করোনঞ্জি গ্রামে মাটির দেওয়াল হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে চাপা পড়েন একই পরিবারে তিনজন। স্থানীয় মানুষ বৃষ্টি ও জল কাদায় উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়লেও প্রতিমা বাগ (৩৭) নামে মহিলার ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। বাকি দুজনের চিকিৎসা চলছে। গতকাল রেলের দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু হলো এক বৃদ্ধের। খড়গপুর স্টেশনের মালগুদাম এলাকায় সোমবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে। মৃত বৃদ্ধের নাম শেখ সাত্তার (৬৭)।

গত আগস্ট মাসের অতিবৃষ্টি ও বন্যায় জেলায় মোট ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছিলো। এর মধ্যে দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু হয় ১৪ জনের। আর এই সেপ্টেম্বর মাসে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও দেওয়াল চাপা পরে ২৩ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে ১৯ জনের মৃত্যু দেওয়াল চাপা পড়ে। গড়বেতা ১ নম্বর ব্লকের  ৬ নম্বর আগরবাড়  অঞ্চলের  নোহারি, একাড়িয়া মৌজায় নয়টি বাড়ি ভেঙে পড়েছে অতিবৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে। একাড়িয়া গ্রামের  মতিন মন্ডল ও  মাজেদ মন্ডল এর বাড়ি দেওয়াল চাপা পড়ায় মোট ৬ জন আহত হয়।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

error: Content is protected !!