নন্দীগ্রামে অশান্তি ছড়ানোর জন্য ভিন রাজ্যের পুলিসের পোশাক কিনে জড় করছে বিজেপি, অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

খড়গপুর ২৪×৭: ভিন রাজ্যের পুলিসের পোশাক কিনছে বিজেপি। বাইরে থেকে লোক জড় করছে। পুলিসের পোশাক পরিয়ে তাদের দিয়ে নন্দীগ্রামে ভোটে অশান্তি পাকানোর ছক কষছে বিজেপি তথা শুভেন্দু অধিকারীরা। ঠাকুরচক ও বয়ালের সভা থেকে এমনই অভিযোগ করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রসঙ্গত, ১ এপ্রিল বৃহসপ্তিবার দ্বিতীয় দফায় নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণ। নন্দীগ্রামের ভোট নিয়ে এবার সরগরম সারা বাংলা। একদিকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়, বিপক্ষে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী, হাইভোল্টেজ লড়াই ঘিরে উত্তোরত্তর চড়ছে পারদ। এরইমধ্যে নন্দীগ্রাম ভোটপর্বের পুরো সময়টা সেখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। এজন্য নিয়েছেন ঘর ভাড়াও। রবিবার থেকে নন্দীগ্রাম জুড়ে একের পর এক সভা করে চলেছেন। আর প্রতি সভা থেকেই অধিকারী পরিবারকে নিশানা করে একের পর এক বিস্ফোরক তোপ দেগে চলেছেন।
গতকালকের পর আজও যেমন নন্দীগ্রামে পুলিসের গুলি চালানো, আন্দোলন সংক্রান্ত মামলা নিয়ে অধিকারী পরিবারকে নিশানা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়, ঠিক তেমনই শুভেন্দু অধিকারীরা এবারও নন্দীগ্রামে অশান্তির ‘ষড়যন্ত্র’ করছেন বলে দাবি করেছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের কথায়, এবারও শুভেন্দু অধিকারীরা সেসব ‘কেলেঙ্কারি’ করছে। এদিন ঠাকুরচকের সভায় তৃণমল নেত্রী আশঙ্কাপ্রকাশ করেন, “ভোটের দিন ভয় দেখাবে বিজেপি। ভিন রাজ্যের পুলিসের পোশাক পরে ভয় দেখাবে। আমার কাছে খবর আছে বিজেপি পুলিসের পোশাক কিনছে। গেস্ট হাউজগুলিতে সেসব জড় করা হচ্ছে। ওরা ভয় দেখাবে। গ্রাম থেকে বেরতে দেবে না।”

শুধু ঠাকুরচকের সভাতেই নয়, বয়ালের সভাতেও ভিন রাজ্যের পুলিস দিয়ে গন্ডগোল, অশান্তি পাকানোর আশঙ্কাপ্রকাশ করেন নেত্রী (Mamata Banerjee)। পাশাপাশি, ভোট দিতে যাতে কোনও বেগ পেতে না হয়, সেজন্য ভোটারদের ‘মাস্ক’ পরে যাওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি। বলেন,”মাস্ক পরে ভোট দিতে যাবেন, নইলে ভিন রাজ্যের পোশাক পরা পুলিসরা, যারা বাংলা ভাষা বোঝে না, তারা ভোট দিতে দেবে না।” পাশাপাশি, এলাকার মেয়ে-মহিলাদের নির্দেশ দেন, “হাতা, খুন্তি, ঝাড়ু রেডি রাখুন।

গুন্ডামি দেখলেই রুখে দাঁড়াবেন।”
মমতার কথায়, “ওরা ম্যাচের আগেই হেরে বসে আছে। তাই গুন্ডামি করছে। গুন্ডামি করে জিততে চাইছে।” তোপ দাগেন, “বিরুলিয়ায় আমি মিটিং করে যাওয়ার পর রাতে গুন্ডা পাঠিয়ে পার্টি অফিস ভেঙেছে। একটা ছেলেকে মেরে হাত, পা, কোমর ভেঙে দিয়েছে। পিজি হাসপাতালে সে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।” কিন্তু তারপরেও ভোটে কর্তব্যরত পুলিস অফিসাররা কেন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করছে না? সে যে-ই হোক, এফআইআর করার পরেও কেন তাঁকে ধরা হয়নি? কীসের জন্য এত ‘প্রোটেকশন’ দেওয়া হচ্ছে? প্রশ্ন তোলেন তিনি।