পুরুলিয়ায় স্ত্রীকে খুন করে আত্মঘাতী চেষ্টা স্বামীর

খড়গপুর ২৪×৭ ডিজিটাল: দীর্ঘদিন ধরে লকডাউন থাকায় কর্ম সহ আর্থিক সমস্যায় পড়েছিলেন পুরুলিয়া জেলার রঘুনাথপুর থানা অন্তর্গত বাবুগ্রামের বাসিন্দা সুধাংশু কুম্ভকার।

দীর্ঘদিন তিনি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বীরভূম জেলার তারাপীঠে ছিলেন। মঙ্গলবার নিজের জন্মভিটায় স্ত্রী কল্পনা কুম্ভকার (৪৮) কে নিয়ে ফেরেন সুধাংশু কুম্ভকার (৫৫)। এরপর বুধবার সকালে নিজের স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করার পর আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

মহিলার স্বামী সুধাশুকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে সুধাংশু কুম্ভকার এবং তার স্ত্রী কল্পনা কুম্ভকার  তারাপীঠে কাজ করতেন। মঙ্গলবার রাতে তাঁরা দুজনেই পুরুলিয়ার গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন। বুধবার সকালে গ্রামের অদূরে একটি পুকুরপাড়ে অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীকে গলা কেটে খুন করেন স্বামী।

তারপর নিজেও আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। তারাই স্বামী স্ত্রীকে পডে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে দুজনকে উদ্ধার করে রঘুনাথপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে  নিয়ে যায়। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিত্‍সকরা কল্পনাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন সুধাংশু বাবু।

করোনা ভাইরাসের প্রকোপ আটকাতে, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের তরফ গতবছর প্রথম লকডাউন শুরু হয়। চলতি বছর ফের দ্বিতীয়বারের জন্য লকডাউন। লকডাউনের জেরে বন্ধ হয়ে গেছে একের পর এক অফিস, কলকারখানা। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন দেশের জনসংখ্যার এক বিরাট অংশ। লকডাউনের জেরে কাজ হারিয়ে ফের বাইরের রাজ্য থেকে এরাজ্যে ফিরে এসেছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। কাজ নেই তাই বাড়ছে আর্থিক অনটন। কাজ হারিয়ে অভাবের জ্বালা সইতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন অনেকে।

কেউ আবার লকডাউনে উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হচ্ছেন নিজেদের পেশা বদল করতে। করোনা পরিস্থিতিতে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে নানা মানসিক সমস্যা।একদিকে পেট্রোল ডিজেলের ক্রমাগত মুল্য বৃদ্ধি। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসেরই দাম বেড়েছে চলেছে। যদিও এই বিষয়ে কোনো হেলদোল নেই রাজ্য এবং কেন্দ্র সরকারের।

লকডাউনের জেরে বন্ধ কাজ কারবার এই দুইয়ের জোড়া ফলায় কার্যত দিশাহারা সাধারণ মানুষ। এদিনের এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন সুধাংশু বাবু জানান দীর্ঘদিন যাবত কর্মসূত্রে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তারাপীঠে ছিলেন তিনি। বর্তমানে লকডাউন হওয়ায় কাজ হারিয়ে আর্থিক সমস্যায় ভুগছিলেন। পাশাপাশি তার কাছে সচিত্র পরিচয় পত্র না থাকায় ওখানে থাকার সমস্যা সহ  করোনা ভ্যাকসিন পাননি তিনি।

পারিবারিক অনটনের কারণে নিজের স্ত্রীকে হত্যা করে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানান তিনি। ঘটনায় সুধাংশু কে আটক করেছে রঘুনাথপুর থানার পুলিশ। আর্থিক অনটনেই কি এই হত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে রঘুনাথপুর থানার পুলিশ।